দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিতের রূপ ও হাসিতে কুপোকাত লক্ষাধিক অনুরাগী। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলিতে তাঁকেও শুনতে হয়েছিল তীব্র কটাক্ষ। মাত্র ১৬ বছর বয়সে কীভাবে বডি শেমিং বা শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী।
কেরিয়ারের শুরুতে কটাক্ষের মুখোমুখি মাধুরী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন মাধুরী। তিনি জানান, যখন তিনি সিনেমা জগতে পা রাখছেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সেই সময় ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। মাধুরী বলেন, তখন মানুষ বলতেন, একে একটু কিছু খাওয়াও, বড্ড রোগা। হিরোইন হওয়ার মতো শরীর নয়। এই ধরনের কথা শুনে স্বভাবতই অত্যন্ত খারাপ লাগত তাঁর।
সমালোচনাকে দূরে সরিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভর তবে এই সমস্ত নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের ওপর প্রভাব ফেলতে দেননি মাধুরী। তিনি জানান, বডি শেমিংয়ের শিকার হলেও নিজের অভিনয়ের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তাঁর প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রমই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ‘অবোধ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে ডেবিউ করেন তিনি। প্রথম ছবি বক্স অফিসে তেমন সফল না হলেও মাধুরীর অভিনয় নজর কেড়েছিল সমালোচকদের।
বলিউডের শীর্ষস্থানে পৌঁছানোর লড়াই ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেজাব’ ছবি মাধুরীর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘এক দো তিন’ গানের হাত ধরে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘দিল’, ‘বেটা’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’-এর মতো একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়ে বলিউডের একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠেন তিনি। মাধুরীর এই লড়াই প্রমাণ করে যে বাহ্যিক রূপ বা শারীরিক গঠনের চেয়ে একজন শিল্পীর প্রতিভা ও মানসিক শক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।