দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ‘বিশ্বাসহীনতার সংকট’ (Trust Deficit) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ঠিক প্রাক্কালে মোদীর এই মন্তব্য বৈশ্বিক কূটনীতির আঙিনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে বিশেষ বার্তা বুধবার এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির অস্থির আবহের কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র বা শিবিরের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব দেখা যাচ্ছে, যা বিশ্বশান্তি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী দিনে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং শুল্ক নীতি নিয়ে যে আলোচনা হতে চলেছে, মোদীর এই বার্তা পরোক্ষভাবে তারই একটি পটভূমি তৈরি করল।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভারতের অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলির নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি চিন্তিত। এই পরিস্থিতিতে মোদী বিশ্ব নেতাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিশ্বাস পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সমীকরণ কিছুটা বদলেছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই আসন্ন বৈঠকে শুল্ক নীতি, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন: সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে বাদ যাক সোশালিস্ট ও সেক্যুলার শব্দ দুটি, মামলা সুপ্রিম কোর্টে
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়ন বরাবরই ভালো। তবে আমেরিকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা সবার আগে আমেরিকা নীতি এবং ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মোদী তাঁর বক্তব্যে প্রকারান্তরে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিশ্বমঞ্চে প্রকৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে গেলে সমস্ত পক্ষকেই খোলামনে এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে আলোচনা টেবিলে বসতে হবে। ওয়াশিংটনে এই বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল।




