দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার ছেলে অভ্যান রেখির একটি সাম্প্রতিক ভিডিয়ো নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে চিত্রগ্রাহকদের সামনে মায়ের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় ছোট্ট অভ্যানকে। নেটাগরিকদের একাংশ দিয়ার ‘পেরেন্টিং’ বা অভিভাবকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে দিয়ার সমর্থনে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী রিচা চড্ডা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সমালোচকদের একহাত নিয়ে বলেছেন, মাত্র তিন বছরের একটি শিশুর স্বাভাবিক আচরণকে কেন্দ্র করে এই ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য অনভিপ্রেত।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। স্বামী বৈভব রেখি এবং ছেলে অভ্যানকে নিয়ে রেড কার্পেটে উপস্থিত হয়েছিলেন দিয়া মির্জা। পাপারাৎজিদের ক্যামেরার ঝলকানি এবং ক্রমাগত ছবি তোলার মধ্যে অভ্যান হঠাৎ করেই তার মায়ের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে দেয়। এই মুহূর্তের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই একাংশ নেটাগরিক শিশুটির আচরণকে ‘অভদ্রতা’ বলে আখ্যা দেন। কেউ কেউ দিয়ার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ছেলেকে ঠিকমতো শিষ্টাচার শেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শিশুটির পাশে দাঁড়ালেন রিচা চড্ডা এই ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ‘ফুকরে’ খ্যাত অভিনেত্রী রিচা চড্ডা। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, ‘ও তো মাত্র একটা বাচ্চা! ওর বয়স কত, তিন কি চার? এই বয়সে বাচ্চারা ক্যামেরার ফ্ল্যাশ এবং এত মানুষের ভিড় দেখে ভয় পেয়ে যেতেই পারে। মায়ের মুখ ঢেকে দেওয়াটা ওর আত্মরক্ষার একটা সহজাত প্রবৃত্তি হতে পারে। এটাকে কেন্দ্র করে ওর বা ওর মায়ের সমালোচনা করাটা চূড়ান্ত অমানবিক।’ রিচা আরও যোগ করেন যে, সেলিব্রিটিদের সন্তানদেরও স্বাভাবিক শৈশব কাটানোর অধিকার রয়েছে এবং প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের বিচার করা উচিত নয়।
অভিভাবকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটা যুক্তিসঙ্গত? মনোবিদদের মতে, ছোট বাচ্চারা অপরিচিত পরিবেশ বা অতিরিক্ত আলো-শব্দে অস্বস্তি বোধ করতে পারে। অভ্যানের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটে থাকতে পারে। দিয়া মির্জা নিজেও এর আগে একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ছেলেকে সাধারণ আর পাঁচটা শিশুর মতোই বড় করতে চান। কিন্তু সেলিব্রিটি হওয়ার কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়শই আতশকাঁচের নিচে থাকে। রিচার এই সমর্থন প্রমাণ করে যে, বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তারকাদের সন্তানদের প্রাইভেসি নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সমাজমাধ্যমের বিচারসভা অনেক সময়ই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই রায় দিয়ে দেয়। একটি ছোট শিশুর নির্দোষ আচরণকে ঘিরে এমন ট্রোলিং সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয় বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
আরও পড়ুন: ছুটি কাটাতে গোয়া পারি দিলেন রনবীর-আলিয়া, দেখুন সেই বিশেষ ছবি




