এলাহাবাদ, ফৈজাবাদ, মুঘল সরাইয়ের পর এবার কি আগ্রা বদলে অগ্রবন? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দিল্লি-লখনউয়ের অলিগলিতে। কিন্তু কেন উঠছে এই প্রশ্ন? সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দফতর থেকে চিঠি গিয়েছে আগ্রা জেলা প্রশাসন এবং ডক্টর বি আর আম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। চিঠির নির্যাস, তাজের শহর আগ্রা কি কখনও অগ্রবন নামে পরিচিত ছিল? লাগাতার নাম বদল করে ইদানীং নাম করে ফেলা যোগী আদিত্যনাথ সরকার যখন এই প্রশ্ন নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেছে, আগ্রার নাম বদলের গুঞ্জন নিয়ে স্বভাবতই উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতির আকাশে বাতাসে। এবার এই প্রসঙ্গেই কড়া অবস্থান নিলেন বাংলার অভিনেতা তথা চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন।
সম্প্রতি অসহিষ্ণুতা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি হোক কিংবা এনআরএস, জেএনইউ। প্রতিটি ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অপর্ণা সেন। এবার তিনি মুখ খুললেন যোগী আদিত্যনাথের নাম বদলের রাজনীতি নিয়ে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অপর্ণা সেন, নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, গুজব শুনছি আগ্রার নাম নাকি বদলে যাচ্ছে? আশা করব এটা গুজবই। কে এই সিদ্ধান্ত নেয়? ভারতের করদাতা জনগণের সঙ্গে আলোচনা না করে কীভাবে এটা করা যায়? আমরা আগ্রা নাম বদলে অন্য কোনও নাম রাখতে দেব না।
আরও পড়ুন: মে মাসেই নিয়ন্ত্রণে আসবে করোনা দ্বিতীয় ঢেউ, আশ্বস্ত করলেন ভাইরোলজিস্ট গগনদীপ কাং

সম্প্রতি জেএনইউতে ফি বিতর্কের সময় বিজেপিপন্থীদের বক্তব্য ছিল, করদাতাদের টাকা জেএনইউতে দেশদ্রোহী তৈরির জন্য খরচ করা উচিত নয়। সেই সময় অপর্ণা সেন পাল্টা ট্যুইট করে বলেছিলেন, আমার করের টাকা যেন জেএনইউয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিছনেই খরচ করা হয়। তাতে বিতর্কও হয়েছিল বিস্তর। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জেএনইউয়ের বিরোধিতা করতে যে করদাতাদের দোহাই দিচ্ছে বিজেপি-আরএসএস, আগ্রার নাম বদলের ক্ষেত্রে সেই করদাতাদের সঙ্গেই আলোচনা না করার অভিযোগ তুলে আসলে অপর্ণা সেন বিজেপির নাম বদলের রাজনীতির মূলে আঘাত করেছেন।