সোমবার, ৩ অগাস্ট রাজ্যে নতুন করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ২,৭১৬। মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। যা ইদানীংকালে সর্বোচ্চ। কিন্তু একই সঙ্গে রয়েছে রূপোলি রেখাও, যা করোনা মোকাবিলায় আশার আলো দেখাচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের। তা হল, এই প্রথম রাজ্যে সুস্থতার হার পেরিয়ে গেল ৭০%। সোমবার রাজ্যে সুস্থতার হার পৌঁছেছে ৭০.০৭ শতাংশে। যা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেকটাই বেশি।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ আটকাতে গত ১৩২ দিন ধরে দেশে চলছে লকডাউন। বিশ্বের দীর্ঘতম এই লকডাউনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মোটের উপর দেশে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গত বেশ কয়েকদিন ধরে দৈনিক টেস্টের সংখ্যা যেমন ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই বেড়েছে সংক্রমিতের সংখ্যাও। কিন্তু প্রশ্ন হল, সংক্রমণের হারে কি কোনও বদল এসেছে? যে হারে টেস্ট বাড়ছে, তার সঙ্গে সংক্রমিতের সংখ্যা বৃদ্ধির কী সম্পর্ক? কী বলছে পরিসংখ্যান?
গত ২৫ জুলাই রাজ্যে মোট টেস্ট হয়েছিল ১৫,৬২৮ টি। সেদিন নতুন করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ২,৪০৪। মৃত্যু হয়েছিল ৪২ জনের। ২৫ জুলাই, শনিবার বাংলায় সুস্থতার হার ছিল ৬৩.২৪%। এবার সরল পাটিগণিতের হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে ২৫ জুলাই তারিখে রাজ্যে ১৫.৩৮% ছিল পজিটিভিটি রেট, অর্থাৎ যা পরীক্ষা হয়েছিল তার ১৫ শতাংশের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন।
তার ঠিক ১০ দিন পর ৩ অগাস্ট, সোমবার বাংলায় নতুন সংক্রমিতের সংখ্যা ২,৭১৬। কিন্তু রাজ্যে মোট টেস্টের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২,১২২। এর ফলে এক ধাক্কায় সুস্থতার হার ৭০% ছুঁয়ে ফেলেছে। এক্ষেত্রে পজিটিভিটি রেট ১২.২৭ শতাংশে এসে ঠেকেছে। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জনের টেস্ট হলে ১০ দিন আগে যেখানে ১৫ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ছিল সেখানে ৩ অগাস্ট প্রতি ১০০ জনে ১২ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ছে। ১০ দিনে রাজ্যে সংক্রমণ কমেছে ৩ শতাংশের বেশি। যদিও স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, যত মানুষ সুস্থ হচ্ছেন, তার সংখ্যা ধরলে সংক্রমণের হার ৮ শতাংশ।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, এ পর্যন্ত বাংলায় মোট সাড়ে ৯ লক্ষেরও বেশি টেস্ট হয়েছে। প্রতি ১০ লক্ষে ১০ হাজার ৬৩০ জনের টেস্ট করেছে বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ১৫ অগাস্টের মধ্যে রাজ্যে রোজ ২৫ হাজার টেস্ট হবে।এখন প্রশ্ন হল, সুস্থতার হার এমন লাফিয়ে বেড়ে যাওয়া কীসের ইঙ্গিত?
দু’সপ্তাহ আগে রাজ্যে রিকভারি রেট ছিল ৫৯%। ৩ অগাস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০.০৭%। যেখানে জাতীয় গড় ৬৫.৯৯%। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই গতিতে টেস্টের পরিমাণ বাড়লে এবং সংক্রমণের হার কমলে, আর দিন দশেকের মধ্যে রাজ্যে সুস্থতার হার পৌঁছে যাবে ৮০% তে। আইসিএমআরের গাইডলাইন বলছে, কোনও ভাইরাসঘটিত রোগে সুস্থতার হার ৮০% পৌঁছনোর অর্থ, তা আর মারণ ভাইরাস নেই।
কিন্তু এই আমূল বদল ঘটল কী করে? প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, মাঝে আলগা লকডাউনের সুযোগে মেলামেশা বেড়েছে। তাতে বেড়েছে সংক্রমণ। যার ফলশ্রুতি নতুন করে রাজ্যে সাপ্তাহিক লকডাউনের ঘোষণা। সেই সাপ্তাহিক লকডাউনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us

You may also like

Mamata Pujo Meet
Farm Bill Protest