মঙ্গলবার মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ থেকে ফের এক যোগে সিপিএম এবং বিজেপিকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে অশান্তির জন্য এই দুই দলের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, আগে যারা ছিল সিপিএমের হার্মাদ, আজ তারাই বিজেপির জল্লাদে পরিণত হয়েছে। তারাই এক হয়ে রাজ্যে গণ্ডগোল পাকাচ্ছে, অশান্তি করছে। এর আগেও ‘বাম-রাম’ রাজ্যে এক হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এদিনও একই অভিযোগের পাশাপাশি, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেই বিজেপি দেশ থেকে ফিনিশ হবে বলেও ফের স্লোগান তোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। বাংলা থেকে প্রতিবাদ হচ্ছে বলে এখানে এজেন্সিকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ সবাইকে নোটিশ দিতে বলছে সিবিআইকে। কিন্তু এভাবে বাংলা দখল করা যাবে না।
গত ১১ অগাস্ট এই মেয়ো রোডেই সমাবেশ করে গিয়েছিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। তীব্র আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। নাগরিকপঞ্জির ইস্যু তুলে সমালোচনা করেছিলেন তৃণমূলের। এদিন নাম না করে তারও জবাব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, বাংলায় কখনই নাগরিকপঞ্জি করতে দেবেন না তিনি। পাশাপাশি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জরুরি অবস্থার থেকেও অনেক খারাপ পরিস্থিতি এখন দেশে। এই অবস্থার বিরুদ্ধে যাঁরাই মুখ খুলছেন, তাঁদেরই ভয় দেখানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিন থেকে শুরু করে সমস্ত বিরোধী শক্তির মুখ বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআইয়ের ভয় দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিন ভাষণের শুরুতে দলের ছাত্র সংগঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, টাকার বিকল্প আছে, কিন্তু কাজের, সংকল্পের কোনও বিকল্প নেই। কয়েক মাস আগেই ছাত্র ভর্তিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে কলেজে-কলেজে টাকা তোলার বেনজির অভিযোগ উঠেছিল। তার জেরে রীতিমতো ক্ষুব্ধও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে বলেছিলেন কড়া ব্যবস্থা নিতে। এদিন ছাত্র-ছাত্রীদের সততার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এরপরই সিপিএম এবং বিজেপিকে এক যোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনই জামবনিতে এক তৃণমূল কর্মীর খুনের কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৩৪ বছর ধরে যারা রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ কায়েম করেছিল, অশান্তি করেছিল, মানুষকে অত্যাচার করেছিল, সিপিএমের সেই হার্মাদরাই আজ সব বিজেপি হয়েছে। যারা আগে ছিল হার্মাদ, আজ তারাই বিজেপির জল্লাদে পরিণত হয়ে আবার বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের মদত করতে বিজেপি টাকা ছড়াচ্ছে। বিদেশ থেকে পর্যন্ত টাকা আসছে বিজেপির অ্যাকাউন্টে। পঞ্চায়েত ভোটে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে কিছু আসনে বিজেপির জয়ের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সব জায়গায় কিছু সিট জিতেছে, আর বাম এবং রাম দুই শক্তি এক হয়ে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আজও আমাদের একজনকে খুন করেছে।
চিট ফান্ড নিয়ে সিবিআই তদন্তের ইস্যুও এদিন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, চিট ফান্ড তৈরি হয়েছিল সিপিএম আমলে। অথচ সিপিএমের কথায় ২০১১ সাল থেকে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। কেন ১৯৮০ সাল থেকে চিট ফান্ডের তদন্ত হবে না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বলেন, বিজেপি বসে বসে সিবিআইকে নির্দেশ দিচ্ছে, একে নোটিশ পাঠাও, ওকে নোটিশ পাঠাও। পুলিশকে ডিসটার্ব করো। কিন্তু এসব করে কোনও লাভ নেই। বলেন, দেশে একটা জঘন্যতম সরকার চলছে। সভ্যতার নামে অসভ্যতা করছে। বাংলা প্রতিবাদ করছে বলে এখন বলছে, বাংলাকে ধ্বংস করে দাও। কিন্তু ২০১৯ সালে ওরা নিজেরাই ফিনিশ হবে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলার কুৎসা করার জন্য বিজেপি নানা বিভ্রান্তিমূলক এবং মিথ্যে খবর প্রচার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, এই ধরনের প্রচার বিশ্বাস না করবেন না। ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা কুৎসা, অপপ্রচার হলে, তার দশটা জবাব দিতে হবে।

You may also like