২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ঘটনাকে হাড়হিম করা সন্ত্রাস বলে অভিহিত করেছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী। তারপর পরিবর্তন এসেছে রাজ্যে, কেটে গিয়েছে ১৩ বছর। আবার একটি ভোটের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলা। এই প্রেক্ষাপটে নন্দীগ্রামের জেলায় দাঁড়িয়ে বর্তমান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় সন্ত্রাস মুক্ত নির্বাচনের বার্তা দিলেন।
বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে দেবী বর্গভীমার মন্দিরে পুজো দিয়ে অশান্তি ছাড়া ভোটের সওয়াল করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বলেন, এ বছর প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড়ো উৎসব ভোট। ভোটে রক্ত ঝরুক, হিংসা হোক, প্রথম সেবক হিসেবে আমি তা চাই না।
এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন হল, কারা করে সন্ত্রাস? কারাই বা সন্ত্রস্ত?
আরও পড়ুন: NARADA মামলায় সুব্রত, ফিরহাদ, মদন, শোভনের জামিন মঞ্জুর আদালতের
বাংলার ভোটের সঙ্গে হিংসার সম্পর্ক আজকের না। দীর্ঘদিন ধরেই গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসবে সন্ত্রাসের উপস্থিতি।
কিন্তু সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে বয়সের দিক দিয়ে নবীন জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে চিত্রটা বরাবর এরকম ছিল না। ২০০১ সালে এই জেলা তৈরি হওয়ার পর থেকে সেখানে ছিল বাম শাসন। হলদিয়ার লক্ষ্মণ শেঠ হয়ে উঠেছিলেন এলাকার কার্যত দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। কিন্তু ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন তৃণমূলকে পূর্ব মেদিনীপুরে প্রতিষ্ঠা দেয়। নেতৃত্বের একেবারে সামনের সারিতে উঠে আসেন নন্দীগ্রাম খ্যাত শুভেন্দু অধিকারী। আগে বারবার ভোটে হারলেও ২০০৯ সালে সেই লক্ষ্মণ শেঠকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদে পৌঁছন মমতা ব্যানার্জির অন্যতম লেফটেন্যান্ট। বিরোধীদের অভিযোগ, পতাকা বদল হয়েছে বটে কিন্তু সন্ত্রাসের চেহারার কোনও পরিবর্তন হয়নি।
নন্দীগ্রাম দিয়ে শুভেন্দু ও তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুরে জয় যাত্রার শুরু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট সন্ত্রাসের শুরুও সেই সময়।
আরও পড়ুন: বাংলায় এলেই বুয়া-ভাতিজা! আপনার ছেলে এত টাকা করল কীভাবে? মমতার আক্রমণ শাহকে
তারপর থেকে ভোট এসেছে ভোট গেছে, সন্ত্রাসের রং বদল হয়নি। কখনও বাম প্রার্থীকে দৌড় করিয়ে মার আবার কখনও পার্টি অফিসে তালা। ভুরি ভুরি অভিযোগ ভোটের দিন বুথ দখলের। সব মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর হয়ে ওঠে কার্যত বিরোধীদের বদ্ধভূমি।
২০২১ বিধানসভা ভোটের আগে বদলে গিয়েছে সেই চিরাচরিত সমীকরণ। এতদিন পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের এক নম্বর নেতা এবার বিজেপি শিবিরে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় কার উদ্দেশ্যে দিলেন সন্ত্রাসহীন নির্বাচনের বার্তা? রাজভবনের বাসিন্দা কি ঘুরিয়ে অধুনা বিজেপি নেতার দিকেই ইশারা করলেন? নাকি গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি সম্পর্কে অবহিত নন তিনি? প্রশ্ন উঠছে।