মোদীর ক্যাবিনেটে ৩৯ শতাংশ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, ৯১ শতাংশ মন্ত্রী কোটিপতি, মাধ্যমিক পাস মন্ত্রী ২ জন

নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ৫৬ জনের নতুন যে মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে, তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক ফৌজদারি মামলা। যা গত পাঁচ বছরের মন্ত্রিসভার তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক মন্ত্রী অভিযুক্ত একাধিক গুরুতর মামলায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া ওড়িশার বালাসোরের সাংসদ প্রতাপচন্দ্র ষড়ঙ্গীর সাদামাটা জীবনযাত্রা নিয়ে জোর আলোচনা রাজনৈতিক মহল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু জানেন কি, এই প্রতাপ ষড়ঙ্গীর বিরুদ্ধেই রয়েছে ৭ টি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা। যার মধ্যে অন্যতম, ওড়িশায় গ্রাহাম স্টুয়ার্ট স্টেইনস এবং তাঁর সন্তানদের পুড়িয়ে মারা এবং দাঙ্গা বাধানোর মতো চাঞ্চল্যকর গুরুতর অভিযোগ। এই সমস্ত তথ্য উঠে এসেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্টে।
১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলীয় ধর্মযাজক গ্রাহাম স্টেইনস ও তাঁর দুই শিশুপুত্রকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার মামলায় নাম জড়ায় প্রতাপচন্দ্র ষড়ঙ্গীর। তবে ষড়ঙ্গী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁকে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। অচিরেই আদালতেও তা প্রমাণিত হবে।
সদ্য প্রকাশিত এডিআরের রিপোর্টে উঠে এসেছে দেশের নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্পত্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য।
এডিআর-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার মন্ত্রিসভায় ৫৬ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনের (৩৯%) বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রুজু আছে। তার মধ্যে ১৬ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মন্ত্রিসভার অন্তত ৬ জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তেমনই আছেন বেগুসরাইয়ের বিজেপি সাংসদ গিরিরাজ সিংহ। আইপিসির গুরুতর ধারায় গিরিরাজ সিংহের বিরুদ্ধে ৯ টি অভিযোগ রুজু হয়েছে।
সম্পত্তির দিক থেকেও প্রথম মোদী মন্ত্রিসভাকে টেক্কা দিয়েছে দ্বিতীয়। এবার মন্ত্রীদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ১৪.৭২ কোটি টাকা। যা গতবারের চেয়ে সামান্য বেশি। ৫৬ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৫১ জনই কোটিপতি (৯১%)। এবার মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বেশি সম্পত্তির মালিক পঞ্জাবের ভাটিণ্ডার অকালি সাংসদ হরসিমরত কউর বাদল। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২১৭ কোটি টাকারও বেশি। তারপরেই পীযুষ গোয়েল, তাঁর সম্পত্তি ৯৫ কোটির উপরে। সবচেয়ে কম সম্পত্তি প্রতাপচন্দ্র সারঙ্গির। তাঁর সম্পত্তি প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার। কম সম্পত্তির তালিকায় রয়েছেন বাংলা থেকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীও। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৬১ লক্ষ টাকার সামান্য বেশি।
এদিকে শিক্ষাগত যোগ্যতারও রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এডিআর। তাতে দেখা যাচ্ছে, মোট ৫৬ জনের মধ্যে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২ জন, দ্বাদশ শ্রেণি পাস ৬ জন। গ্র্যাজুয়েট মন্ত্রীর সংখ্যা ১৬ এবং ডক্টরেট মন্ত্রী রয়েছেন ৪ জন।

Comments are closed.