Take a fresh look at your lifestyle.

নির্ভয়া মামলা: আবার পিছিয়ে গেল দোষীদের ফাঁসির প্রক্রিয়া, ক্ষুব্ধ ধর্ষিতার মা

ফের পিছিয়ে গেল নির্ভয়া মামলায় দোষীদের ফাঁসি কার্যকরের তারিখ। বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই মামলার শুনানি মুলতুবি ঘোষণা করেছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টও বৃহস্পতিবার নির্ভয়া-কাণ্ডে অন্যতম দোষী বিনয় শর্মার শাস্তি লঘু করার পিটিশনের প্রেক্ষিতে শুনানি মুলতুবি রেখেছিল। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তার প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করে দেওয়ার পর ফের সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দেন বিনয় শর্মার আইনজীবী। বিনয় শর্মার আইনজীবী এ পি সিংহ বিভিন্ন মেডিক্যাল রিপোর্ট দিয়ে সওয়াল করেন, জেলের ভিতর ‘বাজে ব্যবহারে’ মানসিক অসুখে ভুগছে বিনয়। কোনও মানসিকভাবে অসুস্থ লোককে মৃত্যুদণ্ড দিলে তা সংবিধানবহির্ভূত হবে বলে সওয়াল করেন তিনি। শুক্রবার বিনয়ের পিটিশন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সরকার পক্ষের আইনজীবী সওয়াল করেন, বিনয় একেবারেই ঠিক আছে, তার স্বাস্থ্যের কোনও অবনতি হয়নি।
এদিকে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট বৃহস্পতিবার জানায়, নির্ভয়া-কাণ্ডে চার দোষীর মধ্যে পবন গুপ্তার আইনজীবী এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য সময় লাগবে। আদালত আগেই জানিয়েছিল, কোনও অপরাধীর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বৃহস্পতিবার পাতিয়ালা হাউস কোর্টের দায়রা বিচারপতি ধর্মেন্দ্র রানা বলেন, মৃত্যুর নির্দেশ ‘প্রচণ্ড স্পর্শকাতর বিষয়, তাই চটজলদি এর সমাধান দেওয়া উচিত নয়।’ এই অবস্থায় আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মামলা মুলতবি ঘোষণা করেন তিনি।
পাতিয়ালা হাউসকোর্টে আগের শুনানিতে পবন গুপ্তার আইনজীবী নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। এভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি এও জানান, ক্রমশ বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস ও আস্থা হারাচ্ছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, বুঝতে পারছি আর কোনওদিন দোষীদের ফাঁসি হবে না।
২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লির প্যারা মেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি চার অপরাধীকে ফাঁসির নির্দেশ দেয় আদালত। প্রথমে ফাঁসি কার্যকরের তারিখ দেওয়া ২২ জানুয়ারি, পরে বিচার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিলতার পর তা পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি করা হয়। কিন্তু এরপরে ফের পিছিয়ে যায় ফাঁসির তারিখ।

Comments are closed.