১৮ ই জুলাই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে আস্থা ভোট হচ্ছে না, নতুন করে নোটিস দিতে হবে, জানাল কলকাতা হাইকোর্ট

আপাতত কিছুদিনের স্বস্তি বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর। সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে তৃণমূল কাউন্সিলাররা যে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন তার জেরে ১৮ ই জুলাই আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল। সেই আস্থা ভোটের প্রক্রিয়া বুধবার স্থগিত করে দিল আদালত।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, যে প্রক্রিয়ায় বিধাননগরের মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে এবং নোটিস দেওয়া হয়েছে তা সঠিক নয়। সব্যসাচী দত্তকে ফের নতুন করে নোটিস পাঠানো যেতে পারে। তবে পুর-কমিশনার নন, পুরসভার চেয়ারপার্সন সেই নোটিস ইস্যু করতে পারেন বলে জানান বিচারপতি।
বুধবার এই মামলার শুনানির শুরুতেই সব্যসাচী দত্তের আইনজীবী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বিধাননগরের পুর-কমিশনারের ইস্যু করা নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এর মধ্যে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের বাদানুবাদের জেরে রায়দান স্থগিত থাকে। শুনানির প্রায় দু’ঘন্টা বাদে এই মামলার রায়দান করেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে আগামী ১৮ ই জুলাই বিধাননগরের মেয়রের বিরুদ্ধে যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল তা আপাতত হচ্ছে না।
তৃণমূলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত ১৩ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের মামলা করেছিলেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আইন অনুযায়ী হয়নি, এই অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেন সব্যসাচী দত্ত।
গত ৯ ই জুলাই সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূলের কাউন্সিলাররা। বিধাননগর পুরসভার ৪১ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ৩৫ জনই সব্যাসাচীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেন। সেদিন রাতেই সব্যসাচী দত্তকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় অনাস্থা প্রস্তাবের কথা। এই নোটিস পাওয়ার পর ফের বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন সব্যসাচী দত্ত। এরপর সেই অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হন তিনি।

Comments are closed.