দক্ষিণ কলকাতায় সিপিএমের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাবে সম্মত হলেন না অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। কলকাতা এবং রাজ্য সিপিএম নেতৃত্বের আলোচনায় গত সপ্তাহ দুয়েক ধরেই ঘোরাফেরা করছিল দক্ষিণ কলকাতায় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীকে প্রার্থী করার ভাবনা। এব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে একটা পর্যায় পর্যন্ত এগনোও হয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন না সব্যসাচী চক্রবর্তী। যার ফলে অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বা নন্দিনী মুখোপাধায়ের মধ্যে কোনও একজনকে দক্ষিণ কলকাতায় প্রার্থী করার কথা ভাবছে সিপিএম।
প্রাথমিকভাবে প্রার্থী তালিকা অনেকটাই চূড়ান্ত করে ফেলেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থী আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। দমদম কেন্দ্রে ঘোরাফেরা করছে তন্ময় ভট্টাচার্য এবং নেপালদেব ভট্টাচার্যের নাম। বাঁকুড়া কেন্দ্রে সম্ভাব্য সিপিএম প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র। বর্ধমান পূর্ব আসনে দুজন প্রার্থীর নাম জমা পড়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। অমল হালদার এবং আভাস রায়চৌধুরী। আসানসোল লোকসভা আসনে সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থী পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রাম আসনে সম্ভাব্য সিপিএম প্রার্থী সম্প্রতি ব্রিগেডে ভাষণ দেওয়া দেবলীনা হেমব্রম। এর পাশাপাশি, ডায়মন্ডহারবারে আবদুল হাই, বারাকপুরে গার্গী চট্টোপাধ্যায়, হাওড়ায় শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, উত্তর কলকাতায় ফুয়াদ হালিম এবং রূপা বাগচির নাম ঘোরাফেরা করছে। তবে এই প্রার্থীর ব্যাপারটা এখনও কিছুটা নির্ভর করছে কংগ্রেসের সঙ্গে কোন ফর্মুলায় আসন সমঝোতার হচ্ছে তার ওপর। অর্থাৎ, কিছু সিট এখনও ‘ওপেন’ রাখা রয়েছে, যেখানে কোন দল লড়বে তা চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের আসন সমঝোতা নিয়ে যে সামান্য জটিলতা তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই কাটার পথে। সিপিএম নিজের জেতা ২ টি (রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ) এবং আরও ২০ টি, মোট ২২ টি আসনে প্রার্থী দেবে বলে চূড়ান্ত করেছে। শরিকদের জন্য রেখেছে আরও ১০ টি আসন। কিন্তু কংগ্রেস রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদে প্রার্থী দিতে চায় বলে জানিয়েছে রাজ্য সিপিএমের নেতাদের। এই দুটি আসন নিয়ে জেদাজেদি করে আসন সমঝোতা ভেস্তে দিতে চাইছেন না কোনও দলেরই শীর্ষ নেতৃত্ব। দিল্লিস্তরেও বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা চলছে।
রবিবার (৩ রা ফেব্রুয়ারি) দিল্লিতে শুরু হয়েছে সিপিএমের দু’দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট আশাবাদী। সিপিএমের এক শীর্ষ নেতার কথায়, রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা হচ্ছেই। দুটো আসনে একটু জটিলতা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার জন্য আসন সমঝোতা আটকাবে না।
এই আসন সমঝোতার ফর্মুলায় ওপর দাঁড়িয়েই কোন সিটে কে লড়বেন তা মঙ্গলবারের মধ্যেই চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। রাজ্যে সিপিএম যে ৩২ টি আসনে লড়াই করে তার প্রতিটিতেই সম্ভাব্য দু’জন করে প্রার্থীর নামের তালিকা নিয়ে দিল্লি গিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। যে আসনগুলি কংগ্রেসকে ছাড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে, সেগুলি বাদ দিয়ে বাকি কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থীদের নাম মঙ্গল-বুধবারের মধ্যেই চূড়ান্ত করে ফেলবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সিপিএম চাইছে চলতি সপ্তাহের শেষেই কংগ্রেসের জন্য ১০ টি ছেড়ে রাজ্যে বামফ্রন্টের ৩২ টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিতে।

You may also like