করোনা সংক্রমণ এড়াতে দেশজুড়ে শুরু হওয়া লকডাউনে বহু মানুষের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আয় কমেছে। এদিকে বাজারে শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকারের সুফল বাংলা প্রকল্প। মাত্র তিন মাসেই রেকর্ড ব্যবসা করেছে বাংলার এই প্রকল্প।
নবান্ন সূত্রে খবর, করোনা পর্বের আগে সুফল বাংলার বিভিন্ন স্টল থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি হত। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২১ লক্ষ টাকায়! লকডাউনের সময় মোট ২৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে রাজ্য সরকারি এই প্রকল্প। ন্যায্যমূল্যে টাটকা জিনিসপত্র বিক্রির ফলেই করোনা আবহে এতটা বিক্রিবাটা তাঁদের, জানান ‘সুফল বাংলা’ স্টলের এক বিক্রেতা। আর ক্রেতারা বলছেন, সুফল বাংলার ইউএসপি তাদের বিক্রিত পণ্যের মান। তাঁদের দাবি, ,সুফল বাংলায় বিক্রিত পণ্যের কোয়ালিটি বাকিদের চেয়ে অনেক ভালো।
করোনা ও আমপানের আবহে আমজনতার সুবিধার কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্টলের সংখ্যা বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী রাজ্যে সুফল বাংলা স্টলের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। আগে সারা রাজ্যে ছিল ১৩৪ টি সুফল বাংলার স্টল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৬ তে। কলকাতা, হাওড়া, সল্টলেক এবং নিউটাউনেই রয়েছে ২৩০ টি স্টল।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা, দক্ষিণবঙ্গে বাড়তে পারে বৃষ্টি। খবর আবহাওয়া দফতর সূত্রে।
কৃষকদের থেকে সরাসরি সবজি, মাছ কিনে এই স্টলগুলিতে বিক্রি করা হয়। তার ফলে বাজারের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম দামে তরতাজা জিনিস পাওয়া যায়। প্রতিটি স্টলেই দামের তালিকা ডিসপ্লে করা থাকে ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে জিনিসপত্র ওজন করা হয়। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই স্টলগুলির চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভাগীয় মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত জানান লকডাউনে সুফল বাংলা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। অনেক জায়গায় স্টলে শাকসবজির পাশাপাশি মাছও বিক্রি হচ্ছে। এই বিপুল সাড়ায় অভিভূত কর্তৃপক্ষ এবার সুফল বাংলার স্টলে সস্তায় ইলিশ মাছ বিক্রির কথা ভাবছে।
আরও পড়ুন: কীভাবে দুর্যোগের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার! তদন্ত শুরু করল ডিজিসিএ




