বিজেপি ছেড়ে দলে ফিরছেন তৃণমূলের দলছুটরা, দখলে এল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ, হালিশহর, কাঁচড়াপাড়া পুরসভা

লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর পরই রাজ্যের একাধিক পুরসভার কাউন্সিলার, নেতা, বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিতে শুরু করেছিলেন বিজেপিতে। তাঁদের অনেকেই দু’মাস যেতে না যেতেই ফিরতে শুরু করলেন পুরনো দলে। যার জেরে ফের বিভিন্ন পুরসভা দখলে নিতে শুরু করল রাজ্যের শাসক দল। পাশাপাশি, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদও ফিরে পেল তৃণমূল। এই জেলার তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কয়েকজন জেলা পরিষদ সদস্য দল ছেড়েছিলেন, তাঁরা আবার ফিরে এলেন পুরনো দলে।
ইতিমধ্যেই হালিশহর পুরসভার ৮ কাউন্সিলার বিজেপি থেকে ফিরেছেন তৃণমূলে। শনিবার আরও ১ দলছুট কাউন্সিলার ফিরলেন পুরনো দলে। শনিবার মুকুল-শুভ্রাংশুর এলাকা কাঁচড়াপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সুদমা রায় সহ ৯ দলত্যাগী কাউন্সিলার বিজেপি থেকে ফিরলেন তৃণমূলে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তাঁরা তৃণমূলে ফেরেন। এর ফলে হালিশহর এবং কাঁচড়াপাড়া পুরসভা ফের দখলে এল তৃণমূলের।
এর পাশাপাশি, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদও পুনর্দখল করল তৃণমূল। কিছুদিন আগেই বিপ্লব মিত্রর সঙ্গে এই জেলা পরিষদের ৩ তৃণমূল সদস্য বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন পঞ্চানন বর্মণ, ইরা রায় এবং গৌরী মালি। শনিবার তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন এই জেলার তৃণমূল সভাপতি অর্পিতা ঘোষ। তিনি বলেন, ভুল বুঝিয়ে জেলা পরিষদ সদস্যদের বিজেপিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মুকুল রায়কে নিশানা করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বলেন, কাঁচড়াপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ ১৭ জন কাউন্সিলারকে ভয় দেখিয়ে দিল্লি নিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই তৃণমূলে ফিরে এলেন। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, লোকসভার ফল বেরনোর পরই ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস করে এবং নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দল ভাঙানোর খেলায় নেমেছিল বিজেপি। কিন্তু এক’দেড় মাসের মধ্যেই দলছুটরা ভুল বুঝতে পেরেছেন। অনেকেই ফিরেছেন, বাকিরা যোগাযোগ রাখছেন।

Comments are closed.