দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি দলবদল করে বিজেপিতে যাওয়া অভিযুক্ত নেতাদের কি এবার গ্রেফতার করা শুরু হবে? তৃণমূলের জারি করা বিবৃতি ঘিরে জল্পনা

কাটমানি ইস্যুতে অভিযুক্ত দলীয় নেতাদের পাশাপাশি এবার বিজেপিকে কড়া বার্তা তৃণমূলের।
কাটমানি বিতর্কে উত্তাল তৃণমূলের অন্দরমহল। লোকসভা ভোটের ফলের পরই মূল্যায়নে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিকভাবে কিছু কারণ চিহ্নিত করেন এই বিপর্যয়ের জন্য। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে দলের এক শ্রেণির নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। সম্প্রতি নজরুল মঞ্চে গোটা রাজ্যের কাউন্সিলারদের বৈঠকে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত দলীয় নেতাদের এক হাত নেন তৃণমূল নেত্রী। পরিষ্কার জানিয়ে দেন, দুর্নীতি করে তৃণমূলে থাকা যাবে না। যাঁরা সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে কাটমানি নিয়েছেন, তাঁদের সেই টাকা সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তার তিনদিন বাদেই নদিয়া জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, দলের সাংসদ-বিধায়করাও দুর্নীতি করলে ছাড় পাবেন না। দরকারে পুলিশ দিয়ে অ্যারেস্ট করিয়ে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর এই দুই বার্তা ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে তৃণমূলের অন্দরে। এবার এই কাটমানি প্রসঙ্গে দলনেত্রীর বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার সূত্র ধরে রবিবার বিবৃতি জারি করা হল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। রবিবার সন্ধ্যায় দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি জারি করে জানান, তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন চেয়ারপার্সন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তৃণমূলের ৯৯.৯৯ শতাংশ কর্মী এবং নেতা সৎ, পরিশ্রমী এবং সাধারণ মানুষের কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান। কিন্তু পঞ্চায়েত এবং পুরসভার অল্প কয়েকজন সদস্য তাঁদের দুর্নীতি আড়াল করতে এবং ব্যক্তি স্বার্থে বিজেপিতে আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁরা ভাবছেন এই দলবদল করে ছাড় পেয়ে যাবেন, কিন্তু ভুল ভাবছেন। যতই বিজেপি তাঁদের মদত করুক না কেন, আইনের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাবেন না।’
এর পাশাপাশি, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি যে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করেছে, ফের সেই অভিযোগ করা হয়েছে এই বিবৃতিতে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে এই কোটি কোটি টাকার উৎস নিয়ে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, লোকসভা ভোটের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে দলের বিভিন্ন স্তরের বহু নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা এতদিন অনেকটা চাপা ছিল তাই ভোটে বিপর্যয়ের পর বেরিয়ে এসেছে। দলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, ‘যারা দুর্নীতি করেছে তারা দল থেকে চলে গেলে যাক, এতে দলের কোনও ক্ষতি হবে না’। কিন্তু পাশাপাশি কড়া অবস্থানও নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড়া হবে না, বিজেপিতে গিয়ে ছাড় পাবে না কেউ।
এই পরিস্থিতিতে দলের পক্ষ থেকে জারি করা এই জরুরি বিজ্ঞপ্তির মধ্যে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার কি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত দলীয় নেতাদের পাশাপাশি দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদেরও গ্রেফতারি শুরু হবে, এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করছে এই বিবৃতির পর।

Comments are closed.