উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রে নিহত এবং জখম আদিবাসী কৃষক পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দফায় দফায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে বাধা যোগী রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের। প্রতিবাদে বারাণসী বিমানবন্দরে শনিবার দিনভর ধরণা দিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, আবীর বিশ্বাস এবং সুনীল মণ্ডল। তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার বিকেলে বিমানবন্দরে যান কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আদিবাসী হত্যা থেকে শুরু করে এদিনের গোটা ঘটনায় উত্তর প্রদেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ করে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও উত্তর প্রদেশের সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন।
শনিবার সকালে বারাণসীতে বারাণসী বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই ডেরেক ও’ব্রায়েন, আবীর বিশ্বাস এবং সুনীল মণ্ডলকে আটক করা হয়। কেন তাঁদের আটক করা হয়েছে তার কোনও সদুত্তর দেয়নি উত্তর প্রদেশ প্রশাসন, অভিযোগ ডেরেকের। পরে দুপুর ৩ টে নাগাদ আহতদের দেখতে বারাণসীর হাসপাতালে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। আহত ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।
তবে যে সোনভদ্রের উভা গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে আদিবাসী কৃষকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১০ জনকে খুন করা হয়, সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি তৃণমূল নেতাদের। এমনকী হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই বারাণসী বিমানবন্দরে গিয়ে ফের ধরণায় বসে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।
সেখান থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে ট্যুইটারে ডেরেক লেখেন, বাংলায় প্রতিদিন অশান্তি বাধিয়ে সরকার চালাতে বাধা সৃষ্টি করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। উত্তর প্রদেশে সেই একই বিজেপি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নিহত ও আহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও বাধা দেয়। গত বছর এনআরসি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে পড়া অসমে গিয়ে তৃণমূল প্রতিনিধিরা যেমন হেনস্থার স্বীকার হয়েছিলেন, উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকারও সেই একই পন্থা নিয়েছে বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও শুক্রবার থেকে সোনভদ্রে যেতে বাধা দিয়ে আসছে যোগী রাজ্যের প্রশাসন। কেন তিনি নিহত ও আহত আদিবাসী কৃষক পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না সেই প্রশ্ন তুলে শনিবার চুনারে ধরণা দেন প্রিয়াঙ্কা। তবে শনিবার দুপুর নাগাদ নিহত ও আহতদের পরিবারের কয়েকজন গেস্ট হাউসে গিয়ে দেখা করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে। নিহত ও আহতদের পরিবারকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তর প্রদেশ সরকারকে কটাক্ষ করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্য, সোনভদ্রের ঘটনার দায় যোগী আদিত্যনাথের, নেহরুর নয়।
আরও পড়ুন: নীতীশের দল থেকে বহিষ্কৃত প্রশান্ত কিশোর




