১৪ বছর জেল খাটার পর বেকসুর খালাস ‘মাওবাদী’ পতিতপাবন হালদার, সন্তোষ দেবনাথ, মৃত্যুর ৫ বছর পর সুশীল রায়ও

জামিন পাওয়ার পর জেল থেকে বেরোতে মাওবাদী অভিযোগে ধৃত অর্ণব দামের লেগেছিল অনেকটা সময়। কিন্তু এবার তাকেও ছাড়িয়ে গেল আদালতের একটি নির্দেশ। মাওবাদী অভিযোগে ১৪ বছর জেল খাটার পর বেকসুর খালাস হলেন পতিতপাবন হালদার এবং সন্তোষ দেবনাথ। মৃত্যুর ৫ বছর পর বেকসুর খালাস সুশীল রায়ও।

২০০৫ সালের ২১ শে মে, হুগলির হিন্দ মোটর থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে গ্রেফতার হন সুশীল রায় এবং পতিতপাবন হালদার। তার ৯ দিন পর একই অভিযোগে কলকাতার বড়বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার হন সন্তোষ দেবনাথ। পুলিশ অভিযোগ আনে, তাঁরা সিপিআই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ঝাড়গ্রাম দায়রা আদালত ৩ জনকেই যাবজ্জীবনের সাজা শোনায়। সুশীল রায় ও পতিতপাবন হালদারকে রাখা হয় দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এবং সন্তোষ দেবনাথকে রাখা হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। তারপর থেকে এই দুই জেলেই থাকছিলেন তাঁরা। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারেই মৃত্যু হয় সুশীল রায়ের।

ঝাড়গ্রাম দায়রা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ফের আদালতে আবেদন করেন তাঁরা। সেই মামলারই বিচার পর্ব শেষে ৩ জনকেই বেকসুর খালাস করার রায় দিয়েছে আদালত। কিন্তু মামলার বিচার পর্বে প্রায় দেড় দশক কেটে গেল, এর দায় নেবে কে? সরকার কি বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার বাস্তবকে মেনে নিয়ে ক্ষতিপূরণের পথে যাবে? মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূরের দাবি, এই মামলা থেকেই বোঝা যায়, রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলাই সাজানো। অবিলম্বে সমস্ত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Comments are closed.