করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে চলে এল জোড়া কেন্দ্রীয় দল। আর তা নিয়েই নতুন করে দ্বন্দ্বে কেন্দ্র ও রাজ্য। কেন্দ্রীয় দল আসার খবর পেয়েই তার কড়া সমালোচনা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে বলেছিলেন, যুক্তিসঙ্গত কারণ না দেখাতে পারলে আমরা এটা নিয়ে এগোতে পারবো কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। কারণ এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এবার আরও এক কদম এগিয়ে গেলেন মুখ্যসচিব। সাফ জানিয়ে দিলেন, কী কারণে রাজ্য সফর তা পরিষ্কার না করলে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দলকে রাজ্যে ঘুরতে দেওয়া হবে না।
মুখ্যসচিব রাজীবা সিনহা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় দল নিজেরাই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, ওঁদের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে আমরা কিছু লুকোচ্ছি। এয়ারপোর্টে নেমে যেভাবে সোজা ফিল্ডে চলে যাচ্ছেন এটা মেনে নেবো না। মুখ্যসচিব দাবি করেন, রাজ্যকে না জানিয়ে বাগডোগরা ও কলকাতায় পৌঁছে কোথাও এসএসবি আবার কোথাও বিএসএফকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন কেন্দ্রীয় দলের সদস্যরা।
কলকাতায় কেন্দ্রের যে দল এসেছে, তার প্রধানকে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যসচিব। গোটা ঘটনা তাঁর কাছ থেকেই শুনবেন এবং রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের দলকে জানানো হবে। আর উত্তরবঙ্গে যে টিম গিয়েছে, তাদের নবান্নর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মুখ্যসচিব বলেন, তারপর প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্রীয় দল ফিল্ডে যেতে পারে। কিন্তু যেভাবে রাজ্যকে কার্যত এড়িয়ে গোটা ঘটনা পরিচালনার চেষ্টা হচ্ছে তা অনুচিত বলে মন্তব্য করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। তারপর স্পষ্ট জানান, রাজ্যে আসার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলে কেন্দ্রীয় দলকে রাজ্যে ঘুরতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: জেনেটিক্সে স্নাতকোত্তর ক্রিকেট ভক্ত দেবাঞ্জনের প্রতারণার কারবারের নেপথ্যে কী?
পাশাপাশি মুখ্যসচিব জানান, কলকাতা ও হাওড়ার কিছু অংশে এখনও ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই লকডাউন আরও কড়াভাবে প্রয়োগ করছে প্রশাসন। মঙ্গলবার থেকে কলকাতা ও হাওড়ার কিছু জায়গায় Rapid Test শুরু হয়ে যাবে।
রাজীবা সিনহা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ জন। রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৫। রাজ্যে মোট ৫৪৬৯ টি টেস্ট করা হয়েছে। মালদা মেডিক্যালের ল্যাবরেটরিও কাজ শুরু করে দিয়েছে। মুখ্যসচিব জানান, মালদায় ৫৯ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সবকটিই নেগেটিভ।