আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোট প্রস্তুতি চূড়ান্তভাবে শুরু করল দিল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। জোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রার্থী বাছাই যাতে মসৃণভাবে হতে পারে তার জন্য কোর কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র, অধীর চৌধুরীরা।
মঙ্গলবার মধ্য কলকাতায় মিটিংয়ে বসেছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, আরএসপি নেতা মনোজ ভট্টাচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা অশোক ঘোষ এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান, বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী, ঋজু ঘোষাল।
কিছুদিন আগেই কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা বা জোটে ছাড়পত্র দিয়েছিল সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটি। তারই চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবার রাজ্যে শুরু করে দিলেন দুই দলের নেতৃত্ব। ২০১৬ সালে আসন সমঝোতা হলেও, বেশ কিছু আসনে গোলমাল বেঁধেছিল দুই দলের নেতাদের মধ্যে। সেই সময় সিপিএমেরও অনেক নেতা জোটের বিরোধী ছিলেন। সম্পূর্ণ মসৃণভাবে জোট না হলেও ২০১৬ সালে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল তা এবার এড়িয়ে যেতে চাইছেন বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। ২০১৯ লোকসভায় স্রেফ আসন রফা ঠিকমতো না হওয়ায় আলোচনা অনেক দূর এগিয়েও জোট ভেঙে যায়। জেতা দুটি আসন রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদে নিজেদের প্রার্থী দিতে চেয়েছিল সিপিএম। কিন্তু কংগ্রেস তাতেও রাজি না হওয়ায় লোকসভা ভোটে ভেস্তে যায় আসন সমঝোতা। এবার যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা যায় তার জন্য অনেকদিক আগে থেকেই সচেস্ট হলেন দুই দলের নেতারা। ঠিক হয়েছে, কোর কমিটিই আলোচনা করবেন, কোন দল কোন আসনে লড়বে।
আরও পড়ুন: মহম্মদ সেলিমের ছেলে রাসেল আজিজকে জেরা ভবানীভবনে, প্রতিহিংসার অভিযোগ সিপিএম সাংসদের
পাশাপাশি, মঙ্গলবারের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, অবিলম্বে যৌথ কর্মসূচি শুরু করতে হবে। আগামী ২৬ তারিখ যে বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে তাতেও দু’দলের শ্রমিক সংগঠন থাকবে। কিন্তু তার আগে আগামী সোমবার থেকেই যৌথ প্রচার শুরু করে দেবে দুই দল। ঠিক হয়েছে, ২৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে কলকাতায় বাম ও কংগ্রেস মিছিল করবে। আস্তে আস্তে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে রাজ্যজুড়ে



