দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চে একটি মন্তব্য — তার মাশুল চাকরিচ্যুতি। গুরুগ্রামের ২৩ বছরের ওয়েব ডেভেলপার হিমাংশু জাঙ্গরাকে (Himanshu Jangra) চাকরি থেকে বরখাস্ত করল তাঁর সংস্থা Starvik Design। কৌতুক-শিল্পী প্রণিত মোরে (Pranit More)-র লাইভ শোয়ের ‘ক্রাউড-ওয়ার্ক’ অংশে এক ‘ডেট’-এর গল্প বলতে গিয়ে তিনি যা বলেছিলেন – তার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে দু’জনকেই।
যা ঘটেছিল
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো ক্লিপে দেখা গিয়েছে, জাঙ্গরা এক তরুণীকে ‘ডেট’-এ নিয়ে গিয়ে ৩৭০ টাকার চিকেন বিরিয়ানি খাইয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য – যেহেতু তিনি বিরিয়ানির দাম দিয়েছেন, সেই ‘বিনিয়োগের প্রতিদান’ পাওয়া তাঁর প্রাপ্য। তিনি আরও জানান, ওই তরুণী বারবার আপত্তি জানানোর পরেও তাঁকে একটি ‘অন্ধকার পার্কে’ যেতে চাপ দিয়েছিলেন তিনি। মঞ্চে কথাগুলো বলার সময় হাসতে দেখা যায় কৌতুক-শিল্পী প্রণিত মোরে-কে।
ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পরই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে – মূলত দু’টি বিন্দুতে। প্রথমত, ‘ডেট’-এ খরচ করার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রত্যাশা জুড়ে দেওয়ার মানসিকতা। দ্বিতীয়ত, সম্মতির (consent) প্রশ্নকে পুরোপুরি উপেক্ষা – তরুণীর বারবার আপত্তি সত্ত্বেও চাপ দেওয়ার বিষয়টি।
আরও পড়ুন: মে, জুনে ফ্রি রেশন দেবে মোদী সরকার, দেওয়া হবে ৫ কেজি খাদ্যশস্য
সংস্থার পদক্ষেপ
বুধবার Starvik Design-এর প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মা এক ভিডিয়ো-বার্তায় জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ইমেল, ফোন এবং মেসেজ পেয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, ‘‘কর্মক্ষেত্রের বাইরে যা ঘটেছে, তা এখন কর্মক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করছে। আমাদের সংস্থা, টিম, গ্রাহক এবং যে পরিবেশ আমরা এখানে তৈরি করি – তার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আছে। সেই কারণেই হিমাংশুর সঙ্গে পথ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’’
বিশ্বকর্মা আরও জানান, অফিসের ভিতরে জাঙ্গরার বিরুদ্ধে এর আগে কোনও অভিযোগ ছিল না। তবে মন্তব্যের প্রকৃতি এমনই যে, পদক্ষেপ না নিয়ে উপায় ছিল না।
প্রতিষ্ঠাতাও সমালোচনার মুখে
চাকরিচ্যুতির ঘোষণার পাশাপাশি বিশ্বকর্মা বলেছিলেন, ‘‘আমরা যেমন জবাবদিহি নিশ্চিত করি, তেমনই ভাবার, পরিবর্তিত হওয়ার, ইতিবাচক রূপান্তরের জায়গাও রাখতে হবে।’’ এই ‘পুনর্বিবেচনার সুযোগ’-এর আহ্বানকে অনেকেই সদ্য-বরখাস্ত কর্মীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় সহানুভূতি বলে চিহ্নিত করেছেন। এক ইউজারের প্রতিক্রিয়া – ‘‘একই মানসিকতা যাঁরা আপনার পরিবারের নারীদের সম্পর্কে রাখেন, তাঁদের প্রতিও কি এই একই সমঝোতা ও সুযোগ দেবেন?’’ ভিডিয়োতে ২,০০০-এর কাছাকাছি মন্তব্য এসেছে।
আরও পড়ুন: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে FIR মিজোরামের, আরও উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব
ক্ষমা চেয়েছেন জাঙ্গরা ও কৌতুক-শিল্পী, দু’জনেই
ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে জাঙ্গরা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন। তবে অনেকেই বলছেন, যে অনুতাপ-বার্তা তিনি লিখেছিলেন, সেটি ChatGPT-র মতো AI টুল ব্যবহার করে কপি-পেস্ট করার মতো শোনাচ্ছিল।
প্রণিত মোরেও পরে ক্ষমা চান। মঞ্চে আপত্তিকর কথা শুনে চ্যালেঞ্জ না করে যেভাবে হাসিতে যোগ দিয়েছিলেন – তা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
বৃহত্তর প্রসঙ্গ
ঘটনাটি একটি ভাইরাল ক্লিপের সীমানা ছাড়িয়ে এখন ‘ডেটিং কালচার’-এ এনটাইটেলমেন্ট মানসিকতা এবং সম্মতির প্রশ্ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে। কর্পোরেট দায়বদ্ধতা, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সীমারেখা – এই বিতর্কগুলিও সমান্তরাল ভাবে চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মচারীর ব্যক্তিগত মন্তব্য কোম্পানির ব্র্যান্ড ও সংস্কৃতির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে – সাম্প্রতিক সময়ের ভারতীয় কর্পোরেট পরিসরে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকল।