দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এই মুহূর্তে অ্যাডভেঞ্চার বা এডিভি (ADV) মোটরসাইকেলের চাহিদা তুঙ্গে। সাধারণ যাতায়াতের পাশাপাশি লং ট্যুরিং এবং অফ-রোডিংয়ের জন্য এই ধরণের বাইক পছন্দ করছেন তরুণ প্রজন্মের রাইডাররা। এই চাহিদাকে মাথায় রেখে ২০২৬ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের বাজারে একাধিক নতুন এডিভি বাইক লঞ্চ করতে চলেছে দেশের প্রথম সারির নির্মাতা সংস্থাগুলি। রয়্যাল এনফিল্ডের ফ্ল্যাগশিপ ৭৫০ সিসি মডেল থেকে শুরু করে বাজাজ এবং হিরো মোটোকর্পের সাশ্রয়ী অ্যাডভেঞ্চার বাইক, ভারতের দু-চাকার বাজারে আসতে চলেছে এক ঝাঁক নতুন বিকল্প।
রয়্যাল এনফিল্ডের দুই নতুন বাজি: Himalayan 750 এবং Himalayan 440 ভারতের অ্যাডভেঞ্চার বাইকের বাজারে রয়্যাল এনফিল্ডের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। আসন্ন উৎসবের মরসুমে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে সংস্থাটি দুটি নতুন মডেলের ওপর কাজ করছে। প্রথমটি হলো রয়্যাল এনফিল্ড হিমালয়ান ৭৫০ (Royal Enfield Himalayan 750)। এটি হবে সংস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ফ্ল্যাগশিপ এডিভি বাইক। বর্তমানের ৬৪৮ সিসি প্যারালাল-টুইন প্ল্যাটফর্মকে উন্নত করে তৈরি এই ৭৫০ সিসি ইঞ্জিন থেকে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ বিএইচপি ক্ষমতা পাওয়া যাবে। এর দাম হতে পারে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে।
অন্য দিকে যারা তুলনামূলক কম দামে সাধারণ ট্যুরিং বাইক খুঁজছেন, তাদের জন্য আসছে হিমালয়ান ৪৪০ (Himalayan 440)। স্ক্র্যাম ৪৪০ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বাইকে থাকবে ৪৪৩ সিসি-র এয়ার ও অয়েল কুলড ইঞ্জিন। এটি প্রায় ২৫ বিএইচপি শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এর সম্ভাব্য দাম ২.৪ লাখ থেকে ২.৬ লাখ টাকার কাছাকাছি রাখা হতে পারে।
আরও পড়ুন: জেমস ওয়েবের নামের নেপথ্যের কারণ কী? ১৩০০ কোটি বছর আগের ছবি তোলা এই টেলিস্কোপ নিয়ে আর কী জানা যায়?
বাজাজের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার বাইক এবং হিরো এক্সপালস ৪২১ বাজাজ অটোমোবাইলস ভারতের বাজারে তাদের নিজস্ব সাব-ব্র্যান্ডের অধীনে প্রথম ডেডিকেটেড অ্যাডভেঞ্চার বাইক আনার প্রস্তুতি শেষ করে এনেছে। পুনের রাস্তায় ইতিমধ্যেই এই বাইকের পরীক্ষামূলক দৌড় বা স্পাই শট দেখা গেছে। রিপোর্টে প্রকাশ, বাজাজের এই নতুন বাইকে কেটিএম ২৫০ অ্যাডভেঞ্চার থেকে নেওয়া ২৫০ সিসি-র লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতে পারে, যা প্রায় ৩১ পিএস ক্ষমতা দেবে। আবার অন্য কিছু সূত্রের দাবি, বাজাজ এই বাইকের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ৩৫০ সিসি-র একটি ইঞ্জিনও তৈরি করছে। এর দাম শুরু হতে পারে ২ লাখ টাকা থেকে।
হিরো মোটোকর্পও তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় এক্সপালস সিরিজের সবচেয়ে বড় সংস্করণ এক্সপালস ৪২১ (Hero XPulse 421) বাজারে আনার জন্য লাদাখের পার্বত্য অঞ্চলে পরীক্ষা চালাচ্ছে। এতে একটি সম্পূর্ণ নতুন ৪২১ সিসি একক-সিলিন্ডার লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন থাকবে যা প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ বিএইচপি শক্তি দেবে। ট্রেলিস ফ্রেম এবং ইউএসডি ফর্ক যুক্ত এই বাইকটির দাম ২.৭ লাখ থেকে ২.৯ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে।
প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বিএমডব্লিউ, নর্টন এবং কেটিএম-এর টক্কর প্রিমিয়াম ও মাঝারি ওজনের অ্যাডভেঞ্চার সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করতে আসছে বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলি। বিএমডব্লিউ মোটোর্যাড তাদের নতুন টুইন-সিলিন্ডার ৪৫০ সিসি ইঞ্জিনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করছে বিএমডব্লিউ এফ ৪৫০ জিএস স্পোর্ট (BMW F 450 GS Sport)। রাইডিং মোড এবং স্পোর্টস সাসপেনশন যুক্ত এই বাইকটি প্রিমিয়াম গ্রাহকদের আকর্ষণ করবে।
আরও পড়ুন: ট্যুইটারের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ‘থ্রেডস’; শুরুতেই ৫০ মিলিয়ন প্রফাইল
টিভিএস মোটরের মালিকানাধীন ব্রিটিশ ব্র্যান্ড নর্টন মোটরসাইকেলস ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে চলেছে তাদের নর্টন অ্যাটলাস (Norton Atlas) এবং অ্যাটলাস জিটি (Atlas GT) মডেল দুটি নিয়ে। তামিলনাড়ুর হোসুরে টিভিএস-এর কারখানায় তৈরি হতে চলা এই বাইকটিতে ৫৮৫ সিসি প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন থাকবে যা ৬৮ বিএইচপি শক্তি দিতে সক্ষম। এর দাম হতে পারে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার মধ্যে।
এর পাশাপাশি কেটিএম প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে আসতে চলেছে কেটিএম ৪৯০ অ্যাডভেঞ্চার (KTM 490 Adventure)। এতে প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং একাধিক রাইডিং মোড থাকবে। একই সাথে ইতালীয় ব্র্যান্ড এপ্রিলিয়া তাদের আরএস৪৫৭ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে টুয়ারেগ ৪৫৭ (Aprilia Tuareg 457) এবং মোটোহাউসের মাধ্যমে ইউরোপীয় ডিজাইনের ব্রিক্সটন ক্রসফায়ার ৫০০ স্টর (Brixton Crossfire 500 Storr) ভারতে লঞ্চ করার পরিকল্পনা করছে।
আসন্ন বছরগুলিতে এই নতুন মোটরসাইকেলগুলির আগমন ভারতের অ্যাডভেঞ্চার ও ট্যুরিং বাইকের বাজারকে এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা।




