গত ৮ বছর ধরে কাজ করার পর আচমকা ভারতে সমস্ত কাজকর্ম গুটিয়ে নিল মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বন্ধ হয়ে গেল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া। কর্মীদের বেতন দিতে পারায় তাঁদের রিলিজ করে দেওয়া হয়েছে। মোদী সরকারের ধারাবাহিক প্রতিহিংসামূলক আচরণের নবতম শিকার হিসেবে নিজেদের উল্লেখ করেছে প্রেস বিবৃতি।

গত বছর নভেম্বর মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার বেঙ্গালুরু ও দিল্লির অফিসে তল্লাশি চালায় সিবিআই। জানা যায়, মানবাধিকার সংস্থাটি বিদেশ থেকে তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট ২০১০ বা FCRA লঙ্ঘন করেছে। এবারও সেই সূত্রেই ফ্রিজ করে দেওয়া হয় সংস্থার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ফলে রাতারাতি অর্থ সঙ্কটে পড়ে অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনার কথা তাঁরা জানতে পেরেছেন ১০ সেপ্টেম্বর। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে এতগুলো দিন, কোনও অর্থ নেই। বাধ্য হয়ে সমস্ত কর্মীকে ছাঁটাই করে, দেশ থেকেই কাজকর্ম গুটিয়ে চলে যাচ্ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়ার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অবিনাশ কুমার বলছেন, তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু নয়, অ্যামনেস্টির কাজকর্ম প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনি এবং সর্বগ্রাহ্য। মোদী সরকারের আমলে একটা মনগড়া অভিযোগ এনে বিভিন্ন এজেন্সির চাপে ফেলে দেওয়াটাই দস্তুর হয়ে উঠেছে। দিল্লি দাঙ্গা এবং ৩৭০ পরবর্তী কাশ্মীর নিয়ে অ্যামনেস্টির রিপোর্ট ভারত সরকারের চিন্তার কারণ। রিপোর্টে ভারতীয় প্রশাসন এবং দিল্লির ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করা হয়েছিল। অ্যামনেস্টির কর্মীরা বলছেন, তারই প্রতিদান এজেন্সি লেলিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া। কোনও ঘটনাই বিচ্ছিন্ন নয়।

অবিনাশ কুমারের মতে, মোদী সরকার বিরোধিতার কণ্ঠ শুনতে চায় না। তাই সামান্যতম বিরোধিতা দেখলেই তা সমূলে উপড়ে ফেলতে লেগে পড়ে। তারই সর্বশেষ উদাহরণ অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া। তিনি বলছেন, সরকারি এজেন্সির ক্রমাগত হানাদারি, রাতারাতি সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া সহ বিভিন্নভাবে বিরোধীদের দমন করা হচ্ছে। কারণ এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো কিংবা অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা এক রাতের সিদ্ধান্ত হতে পারে না। আইনি পথে অর্থ সংগ্রহকেও এই সরকার অপরাধের স্তরে নিয়ে গিয়ে আমাদের সাজা দিতে চাওয়া তারই প্রমাণ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার পাততাড়ি গোটানোর ঘটনায় স্বভাবতই সাড়া পড়ে গিয়েছে। সারা বিশ্বের মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দিশারী। কিন্তু মোদী সরকারকে দোষ দিয়ে যেভাবে তারা কাজ বন্ধ করল তাতে আন্তর্জাতিক মহলে চাপে পড়তে পারে ভারত। এই অবস্থায় সরকারের তরফে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় যাওয়া হবে নাকি আর্থিক তছরুপের অভিযোগকেই মান্যতা দেওয়া হবে, সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us