Take a fresh look at your lifestyle.

চিন্তা দূর করে পুজোয় কমল সংক্রমণ, বাড়ছে সুস্থতা, দেখে নিন রাজ্যে পুজোর আগে-পরের হিসেব

করোনা অতিমারির মধ্যেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব উদযাপন নিয়ে দুশ্চিন্তা দানা বেধেছিল। পুজোর ভিড়ে সংক্রমণ লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সত্যিই কি পার্বনে লাগামছাড়া হল সংক্রমণ? কী বলছে পরিসংখ্যান?

২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ছিল ষষ্ঠী। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে ষষ্ঠীর দিন রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ৪,১৫৭। মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। সুস্থতার হার ছিল ৮৭.৪৪ শতাংশ।

তার ঠিক এক সপ্তাহ পরে অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর, বুধবার ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা কমে হয়েছে ৩৯৫৭। মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের এবং সুস্থতার হার বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮৭.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিন বাংলায় সংক্রমণের যে চিত্র ছিল, এক সপ্তাহ পর একাদশীর দিন তাতে বদলের আভাস স্পষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, বিগত বেশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম রাজ্যে দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যা ৪ হাজারের নীচে নেমেছে। লাফিয়ে বাড়ছে সুস্থতার হার। পুজোর সময় সংক্রমণের এই নিম্নগামী সূচক সামগ্রিকভাবে স্বস্তি দিচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তাদের।

স্বাস্থ্য দফতরের এই পরিসংখ্যানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, লাগামছাড়া মেলামেশা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারতো। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে কার্যত উল্টো কথা। যে উৎসবের মরসুমে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করেছিলেন তাঁরা, সেখানেই সংক্রমণ কমার ইঙ্গিতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজোর সময় ঠিক কেমন গতিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে তার সম্পূর্ণ চিত্র পেতে সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে যাতে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি থাকা যায়, সেই জন্য মঙ্গলবার স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন মুখ্য সচিব আলাপন ব্যানার্জি। সেই বৈঠকেই মুখ্য সচিব নিজের ফোনে ধরেন মুখ্য মন্ত্রীকে। সূত্রের খবর, আলাপন ব্যানার্জির ফোনে মুখ্য মন্ত্রী আমলা ও আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন মমতা ব্যানার্জি।

স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ষষ্ঠীর দিন যেখানে রাজ্যে ৪৪,২৫২ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে সেখানে এক সপ্তাহ বাদে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে হয়েছে ৪২,১০৮। নবান্নের নির্দেশ, বর্তমান পরিকাঠামো ব্যবহার করেই নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

Comments are closed.