শিল্পের পথ সুগম করতে কেন্দ্র নির্ধারিত বিভিন্ন মাপকাঠিতে দেশের মধ্যে ৩ নম্বরে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ, গত বছর ছিল দশে

শিল্পের পথ সুগম করতে যে রাজ্যগুলি প্রশাসনিক স্তরে বড় পদক্ষেপ করেছে, তার মধ্যে তৃতীয় স্থানে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে বিদেশি বিনোয়োগ টানা, তাদের শিল্প অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার জন্য রাজ্যের উদ্যোগী হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে কত পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ পৌঁছোবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে রাজ্যের সরকারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর। এই নিরিখে দেশের মধ্যে যুগ্মভাবে প্রথম হয়েছে রাজস্থান ও হরিয়ানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ এবং তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলা। গত বছর রাজ্য ভিত্তিক ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দশম স্থানে। সেখান থেকে এক বছরের মধ্যে তৃতীয় স্থানে উঠে আসা বেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
শিল্পের পথ সরল করতে যে দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। প্রথম মোদী সরকারের আমল থেকেই এই র‍্যাঙ্কিংকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মোদী সরকারের মত, বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে যত বেশি উপরের দিকে উঠতে পারবে ভারত, তত বেশি বিদেশি লগ্নি আসবে। তবে যে কোনও শিল্পের জন্য বেশিরভাগ দায়িত্বই যেহেতু রাজ্যগুলির ওপর বর্তায়, তাই সবকটি রাজ্যকে এই বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগী হতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। শিল্প ক্ষেত্রে, প্রধানত বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি উদাসীনতা বা প্রশাসনিক জটিলতার গেরোয় পড়ে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ হাতছাড়া হয় সংশ্লিষ্ট রাজ্যের। তাই বিদেশি লগ্নি টানতে কোন কোন বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ করতে তারও একটি তালিকা দেয় কেন্দ্র। কোন কোন বিষয়ে প্রশাসনিক জট কাটাতে হবে, তার জন্য ১৮৭ টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
২০১৫ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের তালিকায় ভারতের স্থান ছিল ১৪২ নম্বরে, পরবর্তী তিন বছরে তা ধাপে ধাপে উঠে আসে ১৩০, ১০০ এবং ৭৭তম স্থানে। এখনও পর্যন্ত যে সংস্কারের পথে হেঁটেছে রাজ্যগুলি, তার হিসেবে, পশ্চিমবঙ্গ ১৮৭ টি সংস্কারের মধ্যে ১৫৭ টি কাজ সম্পন্ন করেছে। ১৮৭ টির মধ্যে রাজস্থান ও হরিয়ানায় বাকি আছে মাত্র ২৬ টি সংস্কারের কাজ। অন্ধ্র প্রদেশে এই সংখ্যা ২৯। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট বলছে, অনলাইন ব্যবস্থা বা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

Comments are closed.