আকাশছোঁয়া গ্যাসের দামের প্রতিবাদে পথে নামলেন মমতা ব্যানার্জি। উত্তরের শিলিগুড়ির ভেনাস মোড় থেকে হাসমি চক পর্যন্ত মহিলা মিছিলের নেতৃত্ব দিলেন।
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইকে এবার উত্তরবঙ্গের মাটিতে ছড়িয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ব্রিগেডে সভা করছেন সেই সময় মমতা গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরুর জন্য বেছে নিলেন শিলিগুড়িকে। মিছিলে আগাগোড়া মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে থাকতে দেখা গিয়েছে মিমি ও নুসরতকে।

প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম। তা নিয়ে মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। বিধানসভা ভোটের মুখে মোদী সরকারকে আক্রমণ শানানোর জন্য মমতা ব্যানার্জি বেছে নিলেন গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকেই। সিলিন্ডারের কাট আউটে লেখা, ‘দেখ আমি বাড়ছি মাম্মি!’
আরও পড়ুন: ‘একঝাঁক বানরের মাঝে সিংহির মত দাঁড়িয়ে তিনি’, তৃণমূল নেত্রীকে নিয়ে ট্যুইট মহুয়া মৈত্রের
এদিন পদযাত্রা শেষে মমতা হাসমি চকের উপর মঞ্চে বক্তৃতা দেন। আশপাশের রাস্তা উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নিজের বক্তব্যে শুধু গ্যাসের দাম বৃদ্ধিই নয় অন্যান্য বিভিন্ন ইস্যুতে মোদী সরকারকে আক্রমণ করতে শোনা যায় মমতা ব্যানার্জিকে।
উত্তরবঙ্গের মানুষকে সরাসরি সম্বোধন করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লোকসভায় ঢেলে দিয়েছিলেন, তারপর আর দেখা পেয়েছেন? এরপর মমতা ব্যানার্জি একের পর এক প্রকল্পের নাম বলে জানতে চান কে করেছে? জনতা জবাব দেয় রাজ্য। মমতার কথায়, মনে রাখবেন এটা আপনার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
তারপর আবার গ্যাসের দাম নিয়ে সুর চড়িয়ে মমতার দাবি, বিনা পয়সায় চাল দিচ্ছি, কিন্তু তা থেকে ভাত ফুটিয়ে খেতে গেলে গ্যাসের দাম ৯০০ টাকা! মানুষ বাঁচবে কী করে? প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর। তারপরই ব্রিগেডে বক্তৃতারত নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রীর খোঁচা, এর পরেও আপনি ভোট চাইতে যাচ্ছেন, আপনার লজ্জা করে না! একজন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা ব্যক্তিকে কি এটা শোভা দেয়?
আরও পড়ুন: ডানা ছাঁটা গেল শোভনের, তৃণমূলে গুরুত্ব বাড়ল শুভেন্দুর
এদিন মমতার বক্তৃতায় আসে তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ। মমতা ব্যানার্জি বলেন, আমাদের না জানিয়ে তিস্তার জল বলছে দিয়ে দেবে। বাংলাদেশকে আমি খুব ভালবাসি। শেখ হাসিনা আমার খুব পছন্দের মানুষ। কিন্তু আমাকে নিজের তেষ্টা আগে মেটাতে হবে তো! আমার ছাতি ফেটে যাবে আর তোমাকে জল দেব? এটা সম্ভব নাকি? বলেন মমতা ব্যানার্জি। মমতার হুঁশিয়ারি, তিস্তা উত্তরবঙ্গের আত্মা। মনে রেখ, একে অসম্মান মানব না।
উত্তরবঙ্গের বিধানসভা ভোটে তিস্তা চুক্তির অন্তর্ভুক্তি তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরেই। যেখানে মূলত পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি মাঝ পথে থমকে আছে। এপার বাংলার যুক্তি, তিস্তার নির্দিষ্ট পরিমাণ জল বাধ্যতামূলক ভাবে দিতে হলে সুখায় উত্তরবঙ্গ, বিহার, অসমের বিরাট অংশ শেষ হয়ে যাবে। আপাতত লাল ফিতের ফাঁসে চলে গিয়েছে চুক্তি সম্পাদন। এবার এই ইস্যুকে কৌশলে উত্তরবঙ্গে ভাসিয়ে দিলেন মমতা।




