তৃণমূলে কেউ অন্যায় করলে আমি দাঁড়িয়ে আছি, কান মুলে দেব, দরকার হলে দুটো থাপ্পড় দেব। অন্যায় বরদাস্ত করি না, করবো না।
দলের একাংশের কাজে যে তিনি অসন্তুষ্ট তা ফের একবার স্পষ্ট জানালেন মমতা ব্যানার্জি। নেত্রীর আশ্বাস, এমন কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
পাশাপাশি কালনার জনসভা থেকে দলত্যাগীদের ফের একবার তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর দাবি, দুষ্টু গরুরা জানত একুশের ভোটে টিকিট দেবেন না দিদি, তাই তৃণমূল ত্যাগ করেছে। নাম না করে কালনার দলত্যাগী বিধায়কে নিশানা করে মমতা বলেন, দুর্নীতি ঢাকতে এখন বিজেপিতে গিয়ে হাম্বা হাম্বা করছে। মমতা বলেন, যারা মানুষের পাশে থাকে না আমি তাদের কেউ না। মানুষই আমার সব।
আরও পড়ুন: প্রথম শ্রেণি থেকেই স্কুলে আবশ্যিক কম্পিউটার শিক্ষা, নেওয়া হবে শিক্ষক, সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের
সভায় আগাগোড়া মমতা তুলোধনা করেন বিজেপিকে। তাঁর অভিযোগ উত্তরপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ১১ লক্ষ মেট্রিক টন চাল কিনলেও, বাংলা থেকে সেই তুলনায় সামান্য পরিমান চাল কেনে। তিনি দাবি করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলতি বছরে বাংলার চাষিদের থেকে ৪৪ লক্ষ মেট্রিক টন চাল কিনেছে। এমনকী পিএম কিষাণ সম্মান নিধির জন্য ৬ হাজার কৃষকের নামের তালিকা রাজ্য সরকার কেন্দ্রে পাঠালেও কেন্দ্রে এখনও কৃষকদের ব্যাংকে টাকা পাঠায়নি। রাজ্য সরকারের তরফে কৃষি জমির কর মুকুব, এবং শস্য বীমার প্রিমিয়াম দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের খতিয়ানও পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কালনা শান্তিপুর যোগাযোগের জন্য ১১০০ কোটি টাকার একটি ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা করেন মমতা। দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯ লক্ষ কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মমতার দাবি, ‘আমাদের সরকার থাকবে এবং পরিবার পিছু প্রতিবছর ৫ লক্ষ টাকা করে স্বাস্থ্যসাথী বিমা দেওয়া হবে। পুরোহিতদের ১ হাজার টাকা করে ভাতা এবং ২ কোটি সংখ্যালঘুকে অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রীর তোপ, হিন্দু ধর্মের নামে কুৎসা করছে বিজেপি। চৈতন্যর নামেও ভুল তথ্য দিচ্ছে, বিবেকানন্দের নাম ভুল উচ্চারণ করছে বিজেপি নেতৃত্ব বলে অভিযোগ মমতার। এদিন ফের একবার ত্রিপুরা প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। বলেন, ত্রিপুরার বাঙালিরা বিজেপিকে ভোট দিয়ে এখন কাঁদছে। মিডিয়া বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন। ভিড়ে ঠাঁসা সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করেন বাংলার শাসন গুজরাট থেকে হবে না, তৃণমূলের বিকল্প একমাত্র তৃণমূলই।
আরও পড়ুন: এবার স্কুল খোলার বিষয়ে উদ্যোগী রাজ্য সরকার




