এতদিন উপসর্গ বা উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংস্পর্শ থেকে চার অথবা তারও বেশি সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হচ্ছিলেন এ দেশে। এই সংক্রমণের জন্য সামান্য ড্রপলেটই যথেষ্ট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে ভাইরাসের প্রকৃতি। ভাঙন ধরছে কোভিডের ক্ষমতায়। অন্তত বাংলায় ক্ষেত্রে তো বটেই। এমনই তথ্য দিল চেন্নাইয়ের ‘দ্য ইনস্টিটিউট অফ ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্স’।
সংস্থার গবেষণালব্ধ তথ্য বলছে, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে
বাংলায় আরটি ফ্যাক্টর হল এক। কিন্তু এই আরটি ফ্যাক্টর কী?
আরও পড়ুন: দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন অধিকারী বিরোধী জ্যোতির্ময়
একজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি সর্বাধিক কতজনকে সংক্রামিত করতে পারে, সেই হারকে এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর বা আরটি ভ্যালু বলা হয়। ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি বিশ্লেষণের একটি সূচক হল এই আরটি ভ্যালু। যে কোনও ভাইরাস কত দ্রুত ছড়াতে পারে, তা বুঝতে ব্যবহার হয় এই সূচক। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি নিশ্চিত যে, দেশে ক্রমশ শক্তি খোয়াচ্ছে কোভিড। ভারতে করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় একজনের থেকে দুই থেকে তিন জন, কোনও জায়গায় চারজনকেও সংক্রামিত করার ক্ষমতা ছিল এই মারণ ভাইরাসের। সেই মাত্রা বাংলায় অনেকটাই কমেছে বলে জানাচ্ছে চেন্নাইয়ের এই গবেষণা কেন্দ্র। যার ফলে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যায় খুব একটা বদল না এলেও অদূর ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই আশাব্যঞ্জক।
জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের আরটি ভ্যালু বা একজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে সুস্থ লোকের মধ্যে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা এখন একে এসে ঠেকেছে। দুই বা তিনজন সুস্থ ব্যক্তির মধ্যে ছড়ানোর মতো যে শক্তি লাগে সেই ক্ষমতা এখন আর এই ভাইরাসের নেই।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির নিরিখে এটা এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কারণ, সংখ্যাটি একের কম হলে ধীরে ধীরে করোনার আঘাত কমে আসবে। আরটি ভ্যালু ‘১’ এর উপরে যাওয়ার অর্থ হল করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মহামারীর প্রকৃতি বোঝা এবং সেই মতো পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা নেয় এই আরটি ভ্যালু। স্কুল-কলেজ, গণপরিবহণ, সিনেমা হল সহ বিভিন্ন পরিষেবা ফের চালু করা উচিত কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এই সূচক ভীষণই জরুরি।
আরও পড়ুন: নতুন ভাবে সেজে উঠছে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম, শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ
কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট, দ্য ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্সের তরফে নিধি গুপ্তারা জানাচ্ছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলায় আরটি ফ্যাক্টর হল এক।এই সূচকে বাংলার পারফরম্যান্স দেশের ১৩টি রাজ্যের থেকে ভালো বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি। অর্থাৎ, জাতীয় গড়ের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের করোনা সংক্রমণ মাত্রার অবস্থান সন্তোষজনক। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের আরটি ভ্যালু ১.০৫। ফলে দেশব্যাপী করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা কিছুটা থেকেই যাচ্ছে।
আরটি ট্র্যাকার বলছে, বাংলায় গত ২৬ মার্চ একজন করোনা পজিটিভ রোগী থেকে ভাইরাস ছড়াচ্ছিল দু’জনেরও বেশি সুস্থ মানুষের শরীরে। পয়লা মে সেই পরিসংখ্যান কিছুটা কমে হয় ১.৮৩। এরপর ২৬ মে ১.৫১, ১ অগাস্ট ১.২২ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানোর গতি একেরও নীচে নেমে হয়েছিল ০.৯৯।
আইসিএমআরের মহামারী এবং সংক্রামক ব্যাধি বিভাগের প্রধান ডাঃ সমীরণ পাণ্ডাও জানান, ভারতের আরটি ভ্যালু এখন ১.০৫। তবে যতদিন না ভ্যাকসিন আসছে, ততদিন মুখে মাস্ক পরা ভীষণ জরুরি বলে জানাচ্ছেন তিনি।




