দুয়ারে ত্রাণ: যাচাইয়ের পর বাতিল ৪৫% আবেদনপত্র

মোট আবেদনপত্র জমা পড়েছে ৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৭৭৪ টি। সরকার বিস্তারিত যাচাইয়ের কাজ করেছে। তারপর দেখা গেল প্রায় ২ লক্ষ আবেদনপত্রই ছিল ভুয়ো। তাই সেগুলো বাতিল হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই আর্থিক সাহায্য পেতে শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

আমফানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যশের পর ত্রাণ বণ্টনে আগেরবারের চেয়ে সতর্ক মমতা সরকার। ঘোষণা হয়েছিল, দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচির। যাতে বিরোধীরা প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পায় তাই কেবলমাত্র সরকারি কর্মীদের দিয়ে দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচি প্রায় শেষের পথে।

ত্রাণ পেতে আবেদনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বলা হয়েছিল, ১ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিজেরাই আবেদন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তারপর হবে সরেজমিনে খতিয়ে দেখার কাজ। এই কাজটি প্রায় শেষের পথে। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে প্রায় ৪৫% আবেদনপত্র ভুয়ো বলে বাতিল হয়ে গেছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, হাতেকলমে খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতির পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রেই মনগড়া। ফলে আবেদনপত্র নিয়ে সরকারি আধিকারিকরা আবেদনকারীকে সরাসরি প্রশ্ন করতেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক গলদ। গবাদি পশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সরকারি আধিকারিকদের। কারণ সেক্ষেত্রে গবাদি পশু আদৌ ছিল কিনা তার কোন প্রমাণ দিতে পারছেন না আবেদনকারীরা। তাহলে কোন ভিত্তিতে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে?

দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচিতে ঘরবাড়ির ক্ষতির জন্য প্রায় ৫ হাজার যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখনও যাচাইয়ের কাজ চলছে পাশাপাশি শুরু হয়ে গিয়েছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজও।

যশ ঘূর্ণিঝড়ের পর সরকারি ত্রাণ কর্মসূচি নিয়ে আসে মমতা সরকার। সেই সূত্রেই বিস্তারিত খতিয়ে দেখার কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা। নবান্ন সূত্রে খবর, যাচাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। ঘর কিংবা চাষের জমির ক্ষয়খতি নিরূপণ দ্রুত হলেও গবাদি পশু নিয়ে সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে মনে করছে সরকার।

Comments are closed.