খাগড়াগড় কাণ্ডে ধৃত জেএমবি’র জঙ্গি হাবিবুর রহমানের বেঙ্গালুরুর ডেরা থেকে প্রচুর বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করল এনআইএ

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃত হাবিবুর রহমানের ডেরা থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। এ দেশে তার সহযোগীরা বড়সড় নাশকতার ছক করছিল বলে অনুমান গোয়েন্দাদের। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর গোপন ডেরা থেকে প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে এনআইএ।
২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) হাবিবুর রহমানকে সম্প্রতি গ্রেফতার করে এনআইএ। এবার তার বেঙ্গালুরুর ডেরা থেকে উদ্ধার হল ৫ টি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। এছাড়াও বেঙ্গালুরুর সোলাদেবানাহাল্লিতে ওই জেএমবি জঙ্গির গোপন ডেরায় অভিযান চালিয়ে টাইমার ডিভাইস, রকেট লঞ্চার তৈরির জিনিসপত্র, গ্রেনেড, ইলেকট্রিক সার্কিট সহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেন ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) অফিসাররা। জানা গিয়েছে, জেএমবি জঙ্গি হাবিবুর রহমানকে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করেই এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের সন্ধান পেয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসাররা। বেঙ্গালুরু সহ দেশের বিভিন্ন শহরে বড়সড় নাশকতার লক্ষ্যেই বাংলাদেশের এই জঙ্গি সংগঠনটি তৈরি হচ্ছিল বলে সন্দেহ এনআইএয়ের। তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পেরেছেন, এ দেশে আলাদা করে আইইডি তৈরির কারখানাও খুলেছে এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি। তার হদিশ পেতে জেরা করা হচ্ছে হাবিবুর রহমানকে।
জেএমবি জঙ্গি কওসর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর থেকে বিস্ফোরক সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করত এই হাবিবুর রহমান। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতেও নিজেদের জাল বিস্তার করে জেএমবি। গোয়েন্দারা সন্ধান পান, বেঙ্গালুরুর সোলাদেবনাহাল্লিতে আইইডি ও বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছে। সেখানে বিস্ফোরকও তৈরি হয়। চলে হাতেকলমে প্রশিক্ষণের কাজ। এরপরই সোলাদেবনাহাল্লিতে হানা দিয়ে আইইডি, বিস্ফোরক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে এনআইএ।
উদ্ধার হওয়া আইইডিগুলি পরীক্ষা করে গোয়েন্দারা দেখেন, এর নির্মাণ কৌশল খাগড়াগড়ে উদ্ধার হওয়া হ্যান্ড গ্রেনেডের তুলনায় একেবারেই আলাদা এবং অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির। এই ধরনের পদ্ধতিতে আইইডি সাধারণত মাওবাদীরা তৈরি করে থাকে। এছাড়া জেএমবি জঙ্গি হাবিবুর রহমানের তৈরি রকেট লঞ্চারগুলিও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি।
গত মে মাসেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায়, ১৯৬৭ সালের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ড, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ক্যাফেতে জঙ্গি হামলা, ২০১৮ সালে বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণ কাণ্ড সহ একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘটনায় জড়িত এই জেএমবি সংগঠন।

Comments are closed.