জেলায় জেলায় বন্যার ভ্রূকুটি, জলের তলায় পুজোর সাজ, পুজো ভাসাতে পারে বৃষ্টি, পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের

টানা বৃষ্টিতে পুজোর আনন্দ ম্লান বিভিন্ন জেলায়। কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যার আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় বাসিন্দারা।
ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের জোড়া ফলার জেরে বেশ কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতার আকাশ পরিষ্কার হলেও আবহাওয়া দফতর বলছে, আগামী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ এখনই কাটছে না বলে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর। আগামী ২৪ ঘন্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার সহ অন্যান্য জেলাগুলিতে। এমনকী ষষ্ঠী থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নবমী থেকে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, গোটা পুজো জুড়েই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি জেলা। ব্রাহ্মণী নদীতে ভাঙনের জেরে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এলাকার ধানের জমিও ভেসে গিয়েছে। পাশাপাশি, ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় জল ঢুকতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন ব্লকে। মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় হাজার খানেক মানুষ জলবন্দি হয়ে আছেন। ভাগীরথীর জল ঢুকে পড়েছে জঙ্গিপুরের কয়েকটি নীচু এলাকাগুলিতে।

এদিকে মালদায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গঙ্গা, মহানন্দা, কালিন্দি নদীর জলস্ফীতির জেরে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে মালদার রতুয়া, কালিয়াচক ইত্যাদি এলাকা। অজয়, ময়ূরাক্ষী ও কুঁয়ে নদীর জল ঢুকে পড়েছে বীরভূমের লাভপুর, মহম্মদবাজার সহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। জলের তোড়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙেছে। নলহাটিতে বাড়ির দেওয়াল চাপা পরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, ডিভিসি জল ছাড়ায় প্লাবিত হাওড়ার উদয়নারায়নপুরের বেশ কয়েকটি গ্রাম। হু-হু করে জল ঢুকছে। তৈরি হয়েছে বন্যাতঙ্ক।

প্রায় একই পরিস্থিতি পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুরে। এদিকে, উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে এবছর।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মনিটরিং টিম তৈরি করেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে সেই মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে। জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দুই মন্ত্রীকে মালদা পাঠানো হচ্ছে বলেও এদিন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, জলাধারগুলোতে ড্রেজিংয়ের অভাব রয়েছে। ভবিষ্যতে জল ছাড়ার আগে ডিভিসি যেন রাজ্যকে জানায়, একথাও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সব মিলিয়ে প্রবল বৃষ্টিতে পুজোর খুশি উধাও হয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটছে জলবন্দি মানুষের।

Comments
Loading...