কিছুদিন আগেই তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে রাজ্যসভায় নাটকীয়ভাবে ইস্তফা দিয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলায় নির্বাচনের ঠিক আগে ফের চর্চায় দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী।
রাজনৈতিক নেতা দীনেশ ত্রিবেদী জন্ম দিল্লিতে। শিক্ষাজীবন কেটেছে হিমাচল প্রদেশ এবং কলকাতায়। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সে চাকরি করার। MBA সম্পন্ন করার পর দু’বছর চাকরি করেছিলেন। এরপর চাকরি ছেড়ে কলকাতায় একটি নিজস্ব কোম্পানি খোলেন। তারপর সবটা অতীত… পা রাখলেন রাজনীতির মাটিতে। শুরু হল নতুন যাত্রা পথ।
রাজনৈতিক জীবনে একাধিক দলের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর রাজনীতির ভূমিতে হাতেখড়ি কংগ্রেসে যোগদানের পর্ব থেকে। আটের দশকে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে শুরু হয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা। এরপর নয়ের দশকে ফিরলেন জনতা দলে। ৯ বছর জনতা দলের হয়ে কাজ করার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তরপর প্রায় ২৪ বছর বাংলার ভূমিতে তৃণমূলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এবং এবার বিজেপিতে শুরু হল দীনেশ ত্রিবেদী নতুন রাজনৈতিক যাত্রা।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষায় দেশের মধ্যে শীর্ষে বাংলা, কেন্দ্রের এই স্বীকৃতি লাভে টুইট মুখ্যমন্ত্রীর
প্রায় এক দশক ধরে যুক্ত ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে। তারপর যোগ দেন জনতা দলে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গুজরাত থেকে জনতা দলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। এরপর ২০০২ থেকে ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের (AITC) প্রার্থী হিসেবে ভারতীয় সংসদের উচ্চসভায় সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দীনেশ ত্রিবেদী তৃণমূল কংগ্রেস দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বারাকপুর থেকে জয়লাভ করেছিলেন। সেই বছর নির্বাচনে জেতার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসাবে মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন।
২০১১ সাল, বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা শুরু হল তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলেন মমতা ব্যানার্জি। মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পর এই মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন দীনেশ ত্রিবেদী।
২০১১ তে রেলমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করার পর তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেন। তিনি চেয়েছিলেন রেলের অরাজনীতিকরণ করতে। দীনেশ ত্রিবেদী বিশ্বাস করতেন, সরকারের রেলকে আধুনিকা করতে হবে। যার জন্য ভাড়া বৃদ্ধির কথা তিনি বলেছিলেন। ২০১২ সালের ১৮ মার্চ, অর্থাৎ প্রথম রেল বাজেট উপস্থাপনের দু’দিনের মাথায় রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরতে হয় দীনেশ ত্রিবেদীকে।
আরও পড়ুন: ট্যাবলো বিতর্ক এবার হাইকোর্টে, বাদ পড়ার কারণে জানতে চেয়ে মামলা আইনজীবীর
২০১৬-১৭ সালের মেয়াদে দীনেশ ত্রিবেদী অসামান্য পার্লামেন্টারিয়ানের পুরস্কার লাভ করেন। পলিটিক্যাল ভাবমূর্তির বাইরেও তিনি ইন্দো-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংসদীয় ফোরামের চেয়ারম্যান ছিলেন।
২০১৯ লোকসভা ভোটে বারাকপুর থেকে হেরে যান দীনেশ ত্রিবেদী। তারপর ২০২০ সালে তাঁকে ফের রাজ্যসভার সাংসদ করেন মমতা ব্যানার্জি। এবছর ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। বাংলায় ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর বিজেপির নেতা হিসেবে নতুন পথ চলা শুরু হল।