লোকসভা ভোট পরবর্তী হিংসায় বলি ১০ জনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

লোকসভা ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, হেয়ার স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি পুনঃস্থাপনের অনুষ্ঠানে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
মঙ্গলবার কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি পুনঃস্থাপন অনুষ্ঠান থেকে মমতা বলেন, যে কোনও মৃত্যুই দুঃখের। এরপরেই মুখ্য সচিব মলয় দেকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, মৃতদের পরিবারকে যেন ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড থেকে সাহায্য দেওয়া হয়। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসায় যে ১০ জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৮ জনই তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপির যে ২ জন মারা গিয়েছেন, কীভাবে তাঁরা মারা গেলেন কলেজ স্ট্রিটের মঞ্চ থেকে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক রঙ দেখে তাঁর সরকার সাহায্য করে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মমতার নির্দেশ, বসিরহাটের সন্দেশখালিতে যে ২ জন বিজেপি কর্মী মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবারও যেন সরকারি সহায়তা পায়। যদিও রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন, তাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর দিয়েছেন। সরকারি পরিসংখ্যান না মেনে রাজ্যপালের এই রিপোর্ট পাঠানোকে ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূল সরকার। এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরে উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যপালকে সম্মান করি, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক ভাষণকে নয়।
মঙ্গলবার কলেজ স্ট্রিটের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিজেপির রাজনীতির কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ৩৪ বছরের বাম শাসনের পর তাঁরা যখন ক্ষমতায় আসেন, রাজ্যে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি, কোনও মূর্তিও ভাঙতে হয়নি। মমতার অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলায় হিংসার রাজনীতি করছে বিজেপি। এদিন সংবাদমাধ্যমের একাংশেরও কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, উত্তর প্রদেশ সহ অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপির রাজনৈতিক হিংসার বলি হচ্ছেন অনেকে। তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশে ২৫ জন যাদব মারা গিয়েছেন, কিন্তু সে সব খবর প্রকাশ হচ্ছে না। কারণ বিজেপি মিডিয়াকে ‘কন্ট্রোল’ করছে, অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

Comments are closed.