ভোটের ফল-কাটমানি, অপসারিত হুগলির তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্ত, এরপর কোন নেতার ঘাড়ে কোপ, প্রশ্ন দলের অন্দরে

লোকসভা ভোটের বিপর্যয়ের পরই দলের সাংগঠনিক রদবদল শুরু করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। ছোটখাটো বদল করেছেন রাজ্য মন্ত্রিসভাতেও। কিন্তু দলের সংগঠনে বদল করার প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত। কোচবিহারের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরিয়ে দিলেন হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতিকেও। এরপর আরও বেশ কিছু রদবদল হবে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর, যা নিয়ে আশঙ্কার দোলাচল দলের অন্দরে।
বুধবার সন্ধ্যায় হুগলি জেলার সভাপতি তপন দাশগুপ্তকে অপসারিত করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর জায়গায় এই জেলার সভাপতি করা হয়েছে পুরনো নেতা দিলীপ যাদবকে। লোকসভা ভোটে হুগলিতে তৃণমূলের খারাপ ফল এবং তার পাশাপাশি কাটমানি ইস্যু তপন দাশগুপ্তর অপসারণের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে তৃণমূলের অন্দরের আলোচনায়। কিছুদিন আগেই কাটমানি ফেরতের দাবি নিয়ে খোদ তপন দাশগুপ্তর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়। সূত্রের খবর, সেই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বুধবার জেলার তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরানো হল তপন দাশগুপ্তকে। তাঁর জায়গায় হুগলির নতুন তৃণমূল জেলা সভাপতি হলেন দিলীপ যাদব। সূত্রের খবর, ক’দিনের মধ্যে এই জেলারই একাধিক দলীয় শীর্ষ নেতাকে সরাতে চলেছে তৃণমূল।
লোকসভা ভোটে হুগলি কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। তৃণমূল প্রার্থী রত্না দে নাগকে হারিয়েছেন বিজেপির লকেট চ্যাটার্জি। যে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন তৃণমূলকে শক্ত ভিত দিয়েছিল, সেই সিঙ্গুর বিধানসভাতেও এবার হেরে গিয়েছে মমতার দল। যা নিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিছুদিন আগে হুগলির তৃণমূল নেতাদের নিয়ে পর্যালোচনে বৈঠকে মমতা মন্তব্য করেন, সিঙ্গুরে হার তাঁদের কাছে লজ্জার। সরকারি প্রকল্প মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে দিতে না পারা, দলের এক শ্রেণির নেতার ব্যর্থতাকেই হুগলিরা হারের জন্য দায়ী করেছিলেন মমতা।
তপন দাশগুপ্তর এই অপসারণের পর তৃণমূলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে এর পর কার ঘাড়ে কোপ পড়তে চলেছে তা নিয়ে। কারণ, গত এক মাসে দলের বিভিন্ন স্তরের বহু নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জমা পড়েছে তৃণমূল নেত্রীর কাছে। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে আরও একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।

Comments are closed.