‘অপরাজিত’য় মজে সিনে প্রেমীরা, কফি সহযোগে পর্দার ‘সত্যজিৎ’কে এঁকে তাক লাগলেন রাজ্য পুলিশের দাপুটে গোয়েন্দা কর্তা 

ছোটবেলা তিনি নাকি রিকশাওয়ালা হতে চেয়েছিলেন। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখার গুরু দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ডিআইজি সিআইডি। সেই তিনই অবসর পেলে বসে পড়েন তুলি কলম নিয়ে। সম্প্রতি ‘অপরাজিত’র নায়ক ‘জিতুর’ ছবি এঁকে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছিলেন। যা নজর কেড়েছে নেট নাগরিকদের। অভিনেতা জিতু’ও দুঁদে পুলিশ কর্তার শিল্পকর্মে এতটাই মুগ্ঘ যে নিজের ওয়ালে তা শেয়ার করেছেন। রং তুলি ছাড়াই ছবি আঁকার গল্প ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে TheBengalStory-এর সঙ্গে কথা বললেন ডিআইজি সিআইডি কল্যাণ মুখার্জি। 

“অফিসে বসেই একটা নেস ক্যাফের পাউচ নিয়ে চায়ের কাপে গুলে A4 সাইজে পেপারে আঁকা ছবিটা” জিতু কমলের ছবি প্রসঙ্গে জানালেন আইপিএস কল্যাণ মুখার্জি। সেই অর্থে কখনও আঁকা শেখেননি কোথাও। বললেন, “নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। আঁকা, গান ইত্যাদি শেখানোর মতো অবস্থা ছিল না পরিবারের। নিজে থেকেই পেন্সিল নিয়ে আঁকিবুকি কাটতে কাটতে যেটুকু শেখা।” কথায় কথায় জানা গেল, ২০১৮ সালে আইসিসিআরে তাঁর ছবির প্রদর্শনী হয়েছে। এছাড়াও হায়দ্রাবাদ, দিল্লি, বাংলাদেশে গিয়েছে তাঁর ছবি। আগামী বছরও একটি প্রদর্শনী করার কথা রয়েছে তাঁর। 

এরকম একটি গুরু দায়িত্ব সামলানোর পর সময় বের করেন কীভাবে? “দেখুন পদটা আমার পেশা। কাজের বাইরেও প্রচুর সময় থাকে। নির্ভর করছে আপনি সেটাকে কীভাবে ব্যবহার করছেন। ২৪ ঘন্টা তো আর কম সময় নয়। আর সবথেকে বড় কথা এই কাজগুলো আমায় আনন্দ দেয়” 

ছবি আঁকার পাশাপাশি লেখালিখি করতেও পছন্দ করেন কল্যাণ। তাঁর ফেসবুক ওয়ালে ঢু মারলেই তা চোখে পড়বে। মাল্টি টাস্কিং নিয়ে পুলিশ কর্তার মোত, “দেখুন আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেকটা মানুষই একসঙ্গে নানান ধরণের কাজ করার ক্ষমতা রাখেন। বাড়ির মায়েদেরই দেখুন না, রান্না-বান্না থেকে শুরু করে কত ধরণের কাজ একসঙ্গে সামলাতে পারেন। আর যে কাজ নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও আনন্দ দেয়, সেটাই তো সৃষ্টিশীল কাজ। আমি সেটাই কিছুটা করার চেষ্টা করি।’’ 

গোয়েন্দা দফতরের একজন অফিসার হয়ে, সাহিত্য সিনেমার গোয়েন্দাদের কর্মকাণ্ড কখনও অতিরঞ্জিত বা অযৌক্তিক মনে হয়েছে ? কিছুটা হেসে গোয়েন্দা কর্তার উত্তর, “ছোটবেলা হিন্দি ছবি দেখার সময় এমনটা মনে হত। কিন্তু বয়েসের অভিজ্ঞতায় বুঝেছি, মানুষের জীবন, সিনেমা, সাহিত্যের থেকেও অনেক বেশি জটিল, অপ্রত্যাশিত। বাস্তব জীবন কখন কোন মোড় নেয় তা আমাদের জানা অসম্ভব তাই না”। সাহিত্য হোক বা সিনেমা, তাঁর প্রিয় গোয়েন্দা সবসময় ফেলুদা। সেই সঙ্গে আরও সংযোজন, “আসলে কি জানেন, আমার ভালোলাগাটা ভীষণ পরিব্যাপ্ত। পর্দায় যেমন শবরকে ভালোলাগে, আবার গোয়েন্দা গিন্নিও খুব পছন্দের।” 

কথার কথায় নিজের কর্তব্যও ভুললেন না পুলিশকর্তা। সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে রাজ্যবাসীকে সচেতন করতে সিআইডি’র তরফে ব্যাপকভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি জানালেন, “এই প্রযুক্তির যুগে যদি কেউ সাইবার প্রতারণার শিকার হন অবশ্যই ১৯৩০ নাম্বারে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা সবরকমের সাহায্য করবো”   

    
    

     

Comments are closed.