চলন্ত মেট্রোয় হাত আটকে মৃত্যু, গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত শুরু পুলিশের, উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে মেট্রো কর্তৃপক্ষও, রাজ্যসভায় সরব তৃণমূল

চলন্ত মেট্রোর দরজায় হাত আটকে সজল কাঞ্জিলালের মৃত্যুর ঘটনায় মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দিল কলকাতা পুলিশ। সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্তে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষও।

শনিবার এই ঘটনার পরেই মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে মেট্রোর রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। সেদিন রাতেই শেক্সপিয়ার সরণি থানায় মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন মৃত থিয়েটার কর্মী ও লিটল ম্যাগাজিন বিক্রেতা সজল কাঞ্জিলালের পরিবার। তার ভিত্তিতে কলকাতা পুলিস মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে চালক ও সহকারী চালকের পাশাপাশি মেট্রোর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রো কর্তৃপক্ষের ভূমিকা জানতে চেয়ে চিঠিও পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশ, চাওয়া হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ।
এদিকে সজল কাঞ্জিলালের মৃত্যুর ঘটনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষও। এই ঘটনার তদন্তে সোমবার টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে রাখা দুর্ঘটনাগ্রস্ত রেকটি পরীক্ষা করে দেখেন কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি। পাশাপাশি, সোমবার কলকাতা মেট্রোয় সজল কাঞ্জিলালের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে তীব্র হট্টগোল শুরু হয় রাজ্যসভায়। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরা মেট্রো নিয়ে কেন্দ্রের উদাসীনতার অভিযোগ করেন। এর জেরে বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ থাকে সভার কাজকর্ম।
শনিবার সন্ধ্যে নাগাদ পার্ক স্ট্রিট মেট্রো স্টেশন থেকে কবি সুভাষগামী ট্রেনে ওঠার সময় সজল কাঞ্জিলাল নামে এক থিয়েটার কর্মীর হাত দরজায় আটকে যায়। তাঁর দেহ তখনও ছিল ট্রেনের বাইরে। অভিযোগ, দরজার সেন্সর কাজ করেনি। ওই অবস্থাতেই চলতে শুরু করে ট্রেন। এরপর টানেলে ঢোকার পর দেওয়ালে ধাক্কা লেগে থার্ড লাইনে ছিটকে পড়েন কসবার বাসিন্দা সজল কাঞ্জিলাল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় ট্রেনের চালক ও গার্ডকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে তাঁদের ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।

Comments are closed.