১৮৭৩ সালে ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলা শুরু হয় কলকাতায়। ১৯০২ সালে সেই কলকাতারই খিদিরপুরে শুরু হয়েছিল ইলেকট্রিক ট্রামের সূচনা। প্রথমে নোনাপুকুর ট্রামডিপোয় বসানো হয়েছিল একটি জেনারেটর। যা ট্রামের ইতিহাসে দেশের মধ্যে প্রথম। এমন বহু প্রথম ঐতিহাসিক সূচনার সঙ্গে জড়িত কলকাতার মুকুটে জুড়ল আরও এক পালক। দেশের মধ্যে প্রথম ট্রাম লাইব্রেরি শুরু হচ্ছে কলকাতায়।

শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্ট্রীট হয়ে এসপ্ল্যানেডগামী ট্রাম রাস্তায় কম করে ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই পথে রয়েছে এশিয়ার বিখ্যাত বই বাজার কলেজ স্ট্রিট। ছাত্রছাত্রী ও বইপ্রেমীদের সদা আনাগোনা, ব্যস্ত এই রাস্তা দিয়েই চলবে বিশেষ ‘ট্রাম লাইব্রেরি’।

কী থাকছে ট্রাম লাইব্রেরিতে? ট্রাম যাত্রায় পাওয়া যাবে নানান বই পড়ার সুযোগ, থাকবে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের সুবিধা। এখানেই শেষ নয়, আগামীতে লিটরারি ইভেন্ট, নতুন বই লঞ্চ, এমনকী নভেম্বর মাসে ট্রাম লিট ফেস্টিভ্যাল (Tram Lit Fest) এর পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম কোম্পানির।

আমপানে ট্রামের ট্র‍্যাক এবং ওভারহেড তার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে কয়েকটি রুট ইতিমধ্যে পুনঃস্থাপন হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শ্যামবাজার-এসপ্ল্যানেড রুটেও ফের ট্রাম চলাচল শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে পরিবহণ দফতর। এই রুটেই নামতে চলেছে ট্রাম লাইব্রেরি। কলেজ স্ট্রিট এলাকায় বইপ্রেমীদের স্পিরিট আর যাত্রী টানতে ট্রামের আধুনিকীকরণের দিকে নজর দিয়ে ট্রাম লাইব্রেরি নিয়ে হাজির হচ্ছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। বই আর বই দিয়ে সাজানো হচ্ছে ট্রামের ভেতরের র‍্যাক।

ছাত্রছাত্রী হোক বা অফিস ফেরত যাত্রী কিংবা নেহাত কলকাতা ভ্রমণে আসা যুবক-যুবতী, বিভিন্ন বই ও ম্যাগাজিনে সাজানো ঝকঝকে ট্রাম লাইব্রেরি যে সবার আকর্ষণের কেন্দ্র হবে তা হলফ করে বলা যায়। শুধু গল্প উপন্যাসের বই ও ম্যাগাজিন নয়, লাইব্রেরি অন হুইলসে পাওয়া যাবে আইএএস, আইপিএস, ডব্লুবিসিএস, জিআরই, জিম্যাট ইত্যাদি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দামি দামি বইও। যার টানে কলেজ স্ট্রিট আসা-যাওয়ার পথে চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া যুবক-যুবতী ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বারবার এই ট্রামে চড়তে চাইবেন। তবে এখানেই শেষ নয়, টেকস্যাভি যুব সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য এই বিশেষ ট্রামে থাকছে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের সুবিধা। লক্ষ্য, শুধু বইয়ের পাতাতে নয় চাইলে যাতে ই-বুকেও চোখ রাখতে পারেন যাত্রীরা।

ট্রাম লাইব্রেরির প্রথম সপ্তাহে যাত্রীরা টিকিটের সঙ্গে পাবেন একটি করে সুদৃশ্য কলম, একেবারে বিনামূল্যে। কলকাতার ট্রাম পরিচালনাকারী ডব্লুবিটিসির এমডি রজনবীর সিংহ কাপুরের কথায়, ট্রামকে পড়ুয়াদের যাতায়াতের অনন্য মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ। ট্রামে আস্ত পাঠাগার তৈরির এমন উদ্যোগ ভারত তো বটেই বিশ্বেও হয়ত খুব কম আছে।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us

You may also like

Weather Forecast In Durga Puja