৪ ঘন্টার মধ্যে কাজে ফিরুন, না হলে ব্যবস্থা, এসএসকেএমে আন্দোলরত জুনিয়র ডাক্তারদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

৪ ঘন্টার মধ্যে কাজে ফিরুন, না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসএসকেএম হাসপাতালে বিক্ষোভরত জুনিয়র চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাঁরাই কথা বলতে রাজি হননি।

সোমবার এনআরএসে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রহৃত হওয়ার জেরে চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতিতে বেহাল রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা। বৃহস্পতিবারও রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে অচলাবস্থা কাটেনি। এদিকে চিকিৎসা না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও রোগী আত্মীয়দের মধ্যে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে এসএসকেএমে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে থাকেন। এরপরেই আন্দোলনরত চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, যে চিকিৎসকরা চার ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ দেবেন না, তাঁদের কোনও রকম সাহায্য করবে না সরকার। পাশাপাশি রোগীদের পরিষেবা দিতে না পারলে হস্টেল ছাড়তে হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিষেবা না দিতে পারলে কিসের ডাক্তার! মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মরত অবস্থায় পুলিশও মারা যান, তাঁরা ধর্মঘটে বসেন না। আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে বহিরাগতরাও আছেন বলে সন্দেহ মুখ্যমন্ত্রীর। আন্দোলন চালিয়ে গেলে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিকিৎসা পরিষেবা না মেলায় বৃহস্পতিবার সকালে এসএসকেএমের সামনে পথ অবরোধ করেন রোগীর পরিজনেরা। অভিযোগ, সকাল ৯ টা নাগাদ আউটডোর পরিষেবার জন্য টিকিট দেওয়া হলেও কিছুক্ষণ বাদেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা নাগাদ এসএসকেএমে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগের সামনে অপেক্ষারত রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। এরপরেই আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দ্রুত কাজে যোগ দিতে আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, এনআরএসে যে ঘটনা ঘটেছে তাকে কেউই সমর্থন করেন না। ওই দিন এনআরএসে যা ঘটেছিল তার তদন্ত চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গেই তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি ও সিপিএমের। এরপরেই আন্দোলনরত চিকিৎসকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, দেশের সেনা, পুলিশ কখনও নিজের কর্তব্যে অবহেলা করতে পারেন না। একইভাবে চিকিৎসকদেরও কর্তব্য মানুষের সেবা করা। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে দীর্ঘ সময় রোগীরা পড়ে থাকছে, কোনও চিকিৎসা হচ্ছে না। এমনকী সিনিয়র ডাক্তারদেরও কাজে বাধা দিচ্ছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, সুবুদ্ধি ফিরুক, স্বাভাবিক হোক পরিষেবা।

Comments are closed.