চিট ফান্ড তদন্তে জোর তৎপরতা সিবিআইয়ে, কলকাতায় পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাগেশ্বর রাও

কলকাতায় এলেন সিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও। বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব আছেন তিনি। আগামী দু’দিন চিটফান্ড এবং নারদ তদন্ত নিয়ে অফিসারদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। সল্টলেকের সিজিও কলপ্লেক্স এবং নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে দফায় দফায় তাঁর বৈঠক করার কথা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন এম নাগেশ্বর রাও। সিবিআই দফতরে ঢুকেই তিনি বৈঠক করেন চিট ফান্ড এবং নারদা তদন্তের সুপারভাইজারদের সঙ্গে। সারদা, রোজভ্যালি সহ সমস্ত চিট ফান্ড মামলার তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন সিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর। সেই বৈঠকে হাজির থাকার জন্য কয়েকদিন আগেই সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে নির্দেশ চলে গিয়েছিল। কেস ডায়েরি সহ তদন্তের সমস্ত নথি নিয়ে তাঁদের বৈঠকে হাজির হতে বলা হয়েছে। নারদা মামলার তদন্তকারী অফিসারকেও সমস্ত নথি সহ বৈঠকে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিশা নির্দেশও দিতে পারেন এম নাগেশ্বর রাও, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

২০১৪ সালে চিট ফান্ড মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপর ৫ বছর কেটে গিয়েছে। তদন্তে নেমে সিবিআই গ্রেফতার করেছে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা মদন মিত্র, কুণাল ঘোষদের। কিন্তু সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোট এলেই সিবিআই নড়চড়ে বসে। বিভিন্ন সময় সিবিআইকে বিজেপির হাতের পুতুল বলে আক্রমণ করেছে বিরোধিরা। তাঁদের অভিযোগ, চিট ফান্ড মামলায় নাম ছিল মুকুল রায়েরও। কিন্তু তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে সিবিআইয়ের হাত থেকে রেহাই পেয়ে গিয়েছেন। যদিও বরাবরই বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, আইন চলবে আইনের পথে। এই পরিস্থিতিতে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এম নাগেশ্বর রাওয়ের দু’দিনের কলকাতা সফর যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Comments are closed.