আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর, বিজেপি যেন ভুলে না যায়, নবান্ন থেকে বিজেপিকে নয়া হুঁশিয়ারি মমতার

খোঁচা খাওয়া বাঘ কিন্তু ভয়ঙ্কর। বিজেপিকে ঠিক এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, বিজেপি টাকা ছড়িয়ে আর সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে হিংসা ছড়িয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে। কিন্তু নিজেকে খোঁচা খাওয়া বাঘের সঙ্গে তুলনা করে মমতা বলেন, আহত বাঘ কিন্তু ভয়ঙ্কর। বিজেপি যেন একথা মাথায় রাখে। বাংলায় অশান্তি হলে, তার দায় কেন্দ্রও এড়াতে পারে না, মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বলেন, নানা ভাবে তাঁর কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় যখন কেন্দ্রের প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার, রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি করছে রাজ্য বিজেপি, তখন তৃণমূল নেত্রীর হুঁশিয়ারি, রাজ্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ভেঙে দিয়ে বিজেপি যদি ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠরোধ করা যাবে, তাহলে ভুল ভাবছে। মমতার মন্তব্য, মনে রাখবেন মৃত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ বেশি ভয়ঙ্কর।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, লোকসভা ভোটে কয়েকটা আসন পেয়ে নিজেদের ‘ভগবান’ ভাবতে শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপির প্ররোচনাতেই হিংসার ঘটনা ঘটছে, সোমবার ফের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের পর থেকেই রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় পরিকল্পনামাফিক গণ্ডগোল বাঁধাচ্ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীদের উস্কানিতেই বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে। বাংলায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে তাঁর সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে বিজেপি, অভিযোগ মমতার। তিনি বলেন, বাংলায় অশান্তি হলে কেন্দ্রও সে দায় এড়াতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, লোকসভা ভোটে বিপুল টাকা ছড়িয়ে, ইভিএম কারচুপি করেও এ রাজ্যে আটকে গিয়ছে বিজেপি। তাই গোলমাল করে দার্জিলিঙ থেকে জঙ্গলমহলকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশাসনের একাংশকেও দায়িত্ব পালনের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Comments are closed.