তৃণমূলে কর্মীরাই দলের সম্পদ, কোনও নেতা নয়। বিজেপি কিংবা সিপিএমের অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, কোনও নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা ক্রস চেক করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বুধবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজে কর্মিসভা থেকে দলীয় কর্মীদের এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল নেত্রী জানান, বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সিডি দেওয়া হবে আঞ্চলিক নেতা-কর্মীদের। সেটা দিয়েই মানুষের মধ্যে প্রচার চালাতে হবে।
লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির অপ্রত্যাশিত উত্থান, তৃণমূলের অন্তর্কলহ, কাটমানি খাওয়া-সহ একাধিক কারণে তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী দল বদলেছেন। বুধবার কর্মিসভা থেকে ফের সংগঠন ঢেলে সাজানোর বার্তা দেন নেত্রী। তাঁর নির্দেশ, প্রতিটি ব্লকে অফিস খুলতে হবে কর্মীদের, যাঁরা ভুল বুঝে দূরে সরে গিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিয়ে আসতে হবে। দল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এখানে কর্মীরাই সম্পদ বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্লক কমিটিগুলোতে যেমন তফসিলি, আদিবাসী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মী থাকবেন, তেমনি ছাত্রকর্মীদেরও জায়গা দিতে হবে। সিএএ, এনআরসি, এনপিআর বিরোধী আন্দোলনে যেভাবে ছাত্রছাত্রীরা লড়াই করেছে, সে জন্য তাদের কুর্নিশ জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও দলে নেওয়ার ব্যাপারে জোর দেন তিনি। তাঁর কথায়, শিল্পীদের একটা গানে যে প্রভাব পড়বে, এক ঘণ্টার ভাষণেও হয়তো সেই জোর থাকে না।
মমতা বলেন,দলের কোনও নেতা-কর্মীর নামে অভিযোগ উঠলে তার ঠিকঠাক তদন্ত জরুরি। তবে সব অভিযোগই যে সত্য এমন নয়। বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের কথা শুনে নিজের কর্মীকে আমি ভুল বুঝতে পারব না। আমার দলের কর্মীকে ভালো কাজের জন্য যেমন আশীর্বাদ করব, তেমনি ভুল করলে চড় মেরে শাসনও করব। কিন্তু অন্যের চিঠি-চাপাটিতে ভুল বুঝে কোনও ক্রস চেক ছাড়া সেই কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না। নবগ্রাম থেকে করিমপুর, কৃষ্ণনগর থেকে দেবগ্রাম, কোথায় কী হয়, সূত্র মারফত তিনি দলের সব খবরাখবর রাখেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসকে বিঁধে মমতা বলেন, তিন দল একে অপরকে দেখতে বলে। সিপিএম সুযোগ বুঝে মাঝে মধ্যে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নামে। বাম আমলে রাজ্যে ক’টা প্রকল্প, ক’টা কলেজ হয়েছে, জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির উদ্দেশে মমতার বার্তা, যদি তারা দাঙ্গা করে বাংলা দখল নেবে, ভেবে থাকে তাহলে ভুল ভাবছে।
মমতা এদিন অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে কিছু সাম্প্রদায়িক দল টাকা ছড়িয়ে বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর সৃষ্টি করছে। এরা কোনও গাড়িতে ‘প্রেস’, কোনও গাড়িতে লালবাতি জ্বালিয়ে বন্দুক, বোমা, গাঁজা পাচার করছে। পুলিশকে আরও সজাগ হওয়ার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের এদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে অবহিত করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভুল বুঝে যাঁরা দূরে চলে গিয়েছেন, কৃষ্ণনগরের কর্মিসভা থেকে তাঁদের কাছে আনার বার্তা তৃণমূল নেত্রীর
নেতা নন, কর্মীরাই দলের সম্পদ, এটা মাথায় রাখতে হবে, সতর্ক করলেন মমতা

Track Latest News Live on TheBengalStory.com and get news updates from West Bengal and around the world.
Categories
Bengal



