মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ইচ্ছে প্রকাশ মমতার, বললেন, ‘অপমানিত হয়ে সরকার চালাতে হচ্ছে, কিন্তু এভাবে কাজ করার মানসিকতা নেই’

লোকসভা ভোটের রেজাল্টের পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে দলীয় বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে নিজেই এ কথা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চেয়েছিলাম, কিন্ত দল মানেনি বলেই আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’ দলীয় প্রার্থী এবং নেতাদের সঙ্গে কালীঘাটে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চেয়ার বড় নয়। গত ছ’মাস ধরে ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে হয়েছে। মনে হতো, নির্বাচন কমিশনের দয়ায় যেন মুখ্যমন্ত্রী পদ পেয়েছি।’
শনিবার কালীঘাটে বসেছিল তৃণমূলের পর্যালোচনা বৈঠক। হাজির ছিলেন জয়ী, পরাজিত প্রার্থীরা, জেলার সভাপতি, পর্যবেক্ষক ও শীর্ষ স্তরের নেতৃবৃন্দ। সেই বৈঠকেই মমতা মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বারবার অপমানিত হয়ে সরকার চালাতে হচ্ছে। এভাবে তাঁর পক্ষে আর চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে শুধুমাত্র তৃণমূল সভানেত্রী হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চান। কিন্তু দল মানতে চায়নি বলেই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। মমতার কথায়, দলের সবার জন্য আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, কিন্তু আমার আর মানসিকতা নেই। টাকার জোরে সব কিছুকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কোন শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করব? তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের যে সমস্ত প্রার্থী ১ লক্ষের কম ভোটে হেরেছেন, তাঁদের হারকে তিনি মানেন না। তৃণমূল নেত্রীর সন্দেহ, বিজেপি ইভিএমে কারচুপি করে এক লক্ষ ভোট জালিয়াতি করতে পারে। এ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস একটা সেটিং হয়েছে। আর এতে বাইরের কোনও দেশেরও হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মমতার। তাঁর দাবি, তৃণমূলের ভোট ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর কয়েক শতাংশ ভোট বাড়াতে পারলেই বাম ও রাম এক হলেও তাঁর কিছু এসে-যেত না। পাশাপাশি সিপিএমকে কটাক্ষ করে মমতার মন্তব্য, ওরা নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করল।
ভোটের ফল বেরোনোর পরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্টি অফিস বেদখল হওয়ার অভিযোগ আসছে। এই প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন মমতা। সোমবারের মধ্যে সমস্ত বেদখল হয়ে যাওয়া পার্টি অফিস উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি, এবার নির্বাচনে ব্যাপক টাকার খেলা হয়েছে বলেও ফের অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, রাজ্যে টাকা ঢোকানোর জন্য ইচ্ছে মতো অফিসার বদল করা হয়েছে।

Comments are closed.