করোনা মোকাবিলা করতে করতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের চাপ। এবার তার উপর ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আমফানের ভ্রূকুটি। অনেকে বলছেন বুলবুল, আয়লার চেয়েও ভয়ঙ্কর হতে পারে আমফান। কিন্তু এর মোকাবিলা করতে হবে। মঙ্গলবার নবান্নে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
মঙ্গলবার দুপুর ২ টো নাগাদ দিঘা থেকে ৫৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে আমফান। বুধবার দুপুর ২ টোর পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর এলাকায় তা আছড়ে পড়বে ভূপৃষ্ঠে। ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় গড়ে ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ১৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাশাপাশি প্রভাব পড়বে কলকাতা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশে।
রাজ্য সরকার ঝড় মোকাবিলায় কেবলমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চল এবং নদী-সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ৫০ হাজার, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ৪০ হাজার এবং পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ৪ টি জেলা থেকে ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষকে ফ্লাড শেলটার কিংবা ত্রাণ শিবিরে সরানো হয়েছে।
রাজ্যবাসীর কাছে মমতার আবেদন, বুধবার বেলা ১২ টা থেকে কেউ বাড়ি থেকে বেরোবেন না। বৃহস্পতিবার আমরা গ্রিন সিগনাল দিলে, তবেই বেরোবেন। একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ত্রাণ শিবিরে থাকা মানুষদেরও। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, যদি মনে হয় আপনার বাড়িটি দুর্বল, সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, সরকারি ত্রাণ শিবিরে চলে যান। মানুষকে সহায়তার জন্য নবান্নে কাজ করছে 24X7 কন্ট্রোল রুম। সরকারি কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর (০৩৩) ২২১৪ ৩৫২৬, (০৩৩) ২২১৪ ১৯৯৫। এছাড়াও টোল ফ্রি ১০৭০ নম্বরে ফোন করেও খোঁজ নেওয়া যাবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার তাঁকে ফোন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমফান পরিস্থিতি নিয়েই দু’জনের কথা হয়েছে। দুর্যোগের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন যেন না চলে, সেই আবেদনও রেখেছেন তিনি।

এদিন করোনা পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন মমতা। বলেন, আগামী শুক্রবার দুপুর ৩ টেয় দেশের বিরোধী নেতাদের ভিডিও কনফারেন্স হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন সনিয়া গান্ধী, শরদ পওয়ার, স্ট্যালিন, সীতারাম ইয়েচুরি, হেমন্ত সোরেনরা। সেই বৈঠকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদে আলোচনা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us