সিঙ্গুরে কমছে কৃষিকাজ, চাষ করতে চাইছেন না অনেক কৃষকই, বিধানসভায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী

সিঙ্গুরে চাষ করতে চাইছেন না অধিকাংশ কৃষক, কমছে কৃষিকাজ, বিধানসভায় স্বীকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সিঙ্গুরে অনেকে জমি বিক্রিও করে দিচ্ছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আলোড়ন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
বুধবার বিধানসভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানতে চান, ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে কত ফসল উৎপাদন হয়েছে এবং সেই ফসল থেকে কত দাম পেয়েছেন কৃষকরা। এর উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সিঙ্গুরে অধিগৃহিত ৯৯৭ একর জমির মধ্যে ৯৫৫ একর কৃষকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি জমির মালিকানা দাবি করা হয়নি। কৃষককে ফেরত দেওয়া জমির মধ্যে ২৬০ একর জমিতে ফসল উৎপাদন হয়েছে। আগের বছর ৬৪০ একর জমিতে চাষ হয়েছিল।
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, অনেক কৃষকই চাষ করতে চাইছেন না ওই জমিতে। তাঁরা হয়তো পেশাগত কারণে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছেন বা অর্থনৈতিক কারণে জমি বিক্রি করে দিতে চাইছেন বলে বিধানসভায় জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সিঙ্গুরে জমি ফেরত দেওয়ার পর ওই এলাকায় মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। চাষের জন্য বীজও দেওয়া হয়। কেউ চাষ করেছেন, কেউ করেননি, এটা তাঁদের ব্যক্তিগত অধিকার। তবে সিঙ্গুর নিয়ে তাঁদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী।
২০০৬ সালে হুগলির সিঙ্গুর জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিজেদের পায়ের তলার জমি শক্ত করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান করে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের বড় ভিত্তি ছিল এই সিঙ্গুর। ক্ষমতায় এসে সিঙ্গুরের অধিগ্রহণ করা জমি চাষিদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। এরপর দীর্ঘ মামলা প্রক্রিয়া চলার পর ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুর মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি অরুণ কুমার মিশ্র ও বিচারপতি ভি গোপাল গৌড়ার ডিভিশন বেঞ্চ ২০০৬ সালের জমি অধিগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং চাষিদের জমি ফেরত দেবার নির্দেশ দেয়। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় সরকার গড়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গুরের জমিকে চাষযোগ্য করার চেষ্টা হচ্ছে।
২০১৯ লোকসভা ভোটে হুগলি কেন্দ্রে বিজেপির কাছে হেরে গিয়েছে তৃণমূল। এমনকী সিঙ্গুর বিধানসভাতেও পরাজিত হয় তৃণমূল, যার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, সিঙ্গুরে হার তাঁদের কাছে লজ্জার। বিরোধীরা সেই সময়ই কারখানা তুলে জমি কৃষকদের ফেরানোর সমালোচনা করেছিল। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সিঙ্গুর পর্বে নতুন মাত্রা যোগ করল। সিঙ্গুরে শিল্প এবং কৃষি দুইই গেল বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা।

Comments are closed.