নদিয়া জেলার ১৭ টি আসন। এরমধ্যে ৮ কেন্দ্রের ভোট হয়েছে পঞ্চম দফায়। ষষ্ঠ দফাতেই শেষ ভোট নদিয়ায়। অর্থাৎ বাকি ৯ কেন্দ্রে ভোট হবে ষষ্ঠ দফায়। এই কেন্দ্রগুলি হল করিমপুর, তেহট্ট, পলাশীপাড়া, কালিগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপরা, কৃষ্ণনগর উত্তর, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ।
দেখে নেওয়া যাক গত বিধানসভা আর লোকসভা ভোটের ফল কী ছিল?
২০১৬ সালের বিধানসভায় করিমপুর আসন থেকে জয় পান তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র (৯০,৯৮৯)। সিপিএমের সমর ঘোষ পেয়েছিলেন ৭৫ হাজার ভোট। ২০১৯ সালের লোকসভায় দেখা গেল বিজেপির চেয়ে তৃণমূল এগিয়ে ১৪ হাজার ভোটে। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীকে লোকসভায় লড়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। লোকসভায় তাঁর লিড ছিল ১৪ হাজারের বেশি।
এই কেন্দ্রে এবার তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়। সিপিএমের টিকিটে লড়ছেন প্রভাস মজুমদার। বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ।
আরও পড়ুন: সমাবেশ শুরুর ঠিক আগে কেমন চেহারা ব্রিগেডের, দেখুন ফটো গ্যালারি
তেহট্ট কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের গৌরিশঙ্কর দত্ত। ১৭ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন সিপিএম প্রার্থী। ২০১৯ সালের লোকসভায় ২ হাজার ভোটে এগিয়ে বিজেপি।
এই কেন্দ্রে এবার সিপিএম প্রার্থী সুবোধচন্দ্র বিশ্বাস। বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ পাল। তৃণমূল প্রার্থী করেছে তাপস কুমার সাহাকে।
১৬ সালের ভোটে পলাশীপাড়া বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী তাপস সাহা ৮২,১২৭ ভোট পান। সিপিএম প্রার্থী এসএম সাদি ৭৬,৫৬৮ টি ভোট পান। ২০১৯ সালের লোকসভায় এই কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ভোটে এগিয়ে তৃণমূল।
এবার ভোটে এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী এসএম সাদি। তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন মাণিক ভট্টাচার্য। বিজেপি প্রার্থী করেছে বিভাসচন্দ্র মণ্ডলকে।
কালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের হাসানুজ্জামান ৮৫,১২৫ টি ভোট পান। তৃণমূলের নাসিরুদ্দিন আহমেদ ৮৩৮৯৮ টি ভোট পান। ২০১৯ সালের লোকসভায় ৩৭,২২৮ ভোটের লিড আছে তৃণমূলের।
এবার এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে অভিজিৎ ঘোষকে। নাসিরুদ্দিন আহমেদ (লাল) কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন আবুল কাশেম।
আরও পড়ুন: ‘তোমার থেকে আলাদা হওয়ার কথা ভাবতেও পারিনা’, সৌমিত্র খাঁকে চিঠি সুজাতার
নাকাশিপাড়া কেন্দ্রে ২০১৬ সালে জেতেন তৃণমূলের কল্লোল খাঁ (৮৮,০৩২)। সিপিএমের তন্ময় গাঙ্গুলি ৮১,৭৮২ টি ভোট পান। ২০১৯ সালে লোকসভার ফল অনুযায়ী এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৫০৮০ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল।
এবার এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শান্তনু দে। কল্লোল খাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সিপিএমের টিকিটে লড়ছেন শুক্লা সাহা।
চাপরা বিধানসভা কেন্দ্রে জেতেন তৃণমূলের রুকবানুর রহমান (৮৯,৫৫৬)। ২০১৯ সালে এই কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে লিড করছে তৃণমূল।
এবার এখানে জাহাঙ্গির বিশ্বাস লড়ছেন সিপিএমের টিকিটে। রুকবানুর রহমান তৃণমূল প্রার্থী। বিজেপির হয়ে লড়ছেন কল্যাণ নন্দী।
কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা আসনে ২০১৬ সালে জয়ী হন তৃণমূলের অবনীমোহন জোয়ারদার (৮২,৮৬৪)। ২০১৯ সালে এই কেন্দ্রে প্রায় ৫৪ হাজার ভোটে এগিয়ে বিজেপি।
এই কেন্দ্রে এবার কংগ্রেস প্রার্থী শিলভি সাহা। তৃণমূলের তারকা প্রার্থী কৌশানী মুখার্জি। বিজেপি প্রার্থী বহু যুদ্ধের পোড়খাওয়া সৈনিক মুকুল রায়।
নবদ্বীপ বিধানসভা আসনে ২০১৬ সালের ভোটে জেতেন তৃণমূলের পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা ১,০২,২২৮ ভোট পান। সিপিএম প্রার্থী সুমিত বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৬৬,৪৩২ টি ভোট। ২০১৯ সালে নবদ্বীপ কেন্দ্রে ৪ হাজারের সামান্য বেশি ভোটে এগিয়ে তৃণমূল।
এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থশঙ্কর নষ্কর। তৃণমূল প্রার্থী পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা। স্বর্ণেন্দু সিংহকে টিকিট দিয়েছে সিপিএম।
কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রে ২০১৬ সালে ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জেতেন তৃণমূলের উজ্জ্বল বিশ্বাস। ২০১৯ সালের লোকসভার ফলে এই কেন্দ্রে ৬,৭০০ ভোটে এগিয়ে বিজেপি।
এখানে এবার তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাস। বিজেপি প্রার্থী মহাদেব সরকার। সিপিএম প্রার্থী সুমিত বিশ্বাস।




