সংবিধান মেনেই সংবিধান বাঁচানোর লড়াই লড়তে হবে। সরকার চাইছে হিংসা ছড়িয়ে আমাদের হিংসার পথে নিয়ে যেতে, কিন্তু সেই প্রলোভনে পা দেওয়া যাবে না। সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলেন সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র নেতা উমর খালিদ। এদিন উই দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়ার ব্যানারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সভায় উমর খালিদ বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনকে কুর্নিশ। যেভাবে এই সরকার, তার নীতি এবং এনআরসি, এনপিআর এবং সিএএ-এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ছাত্ররা পথে নেমেছে, তাকে সেলাম। তাঁর কথায়, যাদবপুর ২০১৪ সাল থেকেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। গোটা দেশের ছাত্র সমাজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুরের থেকেই লড়াই শিখেছে।
অন্যদিকে, সমাজকর্মী তথা স্বরাজ ইন্ডিয়া সংগঠনের নেতা যোগেন্দ্র যাদব এদিনের সভায় বলেন, এখন যদি এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কী উত্তর দেওয়া হবে? তাঁর কথায়, গোটা দেশের মানুষ যাদবপুর,জেএনইউ, আলিগড়, জামিয়ার মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে আছে।
সম্প্রতি দু’দিনের কলকাতা সফরে এসে বেলুড় মঠের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন যোগেন্দ্র যাদব। তাঁর কথায়, স্বামীজি যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে নরেন্দ্র মোদীর এই ভারত বিভাজনের চক্রান্ত দেখে লজ্জা পেতেন। এদিন তিনি আরও বলেন, এনআরসি, সিএএ-এর মতো কালা নিয়ম গোটা দেশের মানুষকে এই সরকারের বিরুদ্ধে একজোট করেছে। এর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।
যোগেন্দ্র যাদব বলেন, এটা ডান বনাম বামের লড়াই নয়, এটা ঠিক বনাম ভুলের লড়াই। সংবিধান বাঁচানোর এবং নিজেদের পরিচিতি বাঁচানোর লড়াই।
উমর খালিদ এদিন প্রশ্ন তুলেছেন, ছাত্ররা অধিকারের প্রশ্ন তুললেই তাদের দেশবিরোধী বলে কেন দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে? কেন টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের তকমা দিয়ে প্রতিবাদ রোধ করতে চাইছে সরকার? সরকার যদি মনে করে যাদবপুর, জেএনইউ-এর মতো প্রতিষ্ঠানে দেশ বিরোধী কার্যকলাপ হয়, তাহলে কেন সরকার সেই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে না? তাঁর আরও প্রশ্ন, কেন শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে জনগণের করের টাকা দিয়ে এনআরসি’র মতো কাজ করা হচ্ছে? জেএনইউ এর প্রাক্তন এই ছাত্র নেতা এদিন বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তে যাদবপুর, জেএনইউ-এর মতো অগ্রণী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি হওয়া উচিত।




