‘তমাল যদি বাঙালি বাবু না হয়ে আফগান মেয়ে হতেন?’ তালিবানের প্রশংসা করা তমাল ভট্টাচার্যকে প্ৰশ্ন তসলিমা নাসরিনের

তালিবান জঙ্গিরা ভোটে জিতে নয়, বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ক্ষমতায় বসেছে। জঙ্গিরা ১৪০০ বছরের পুরোনো শরিয়া আইন জারি করবে, শরিয়া আইন কীভাবে মেয়েদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করে, মেয়েদের বোরখার অন্ধকারে বন্দি করে, মেয়েদের পড়াশোনা করার, স্বনির্ভর হওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নেয়।
সম্প্রতি কাবুল থেকে দেশে ফেরা বাঙালি যুবক তমাল ভট্টাচার্যকে উদ্দ্যেশ্য করে এমনই লিখলেন তসলিমা নাসরিন।

ফেসবুকে তিনি আরও লেখেন, বাঙালি বাবুটি নিশ্চয়ই সব জানেন, তারপরও কী করে তিনি বলেন নব্বই দশকের তালিবান আর এখনকার তালিবানে বিস্তর তফাৎ! তাদের ব্যবহারে তিনি তফাৎ দেখেছেন, কিন্তু যে শরিয়া আইনের অধীনে দেশ শাসন করতে তারা বদ্ধ পরিকর, সেই শরিয়া আইন তো একই আছে, নব্বই দশকে যা ছিল, এখনও তো তাই। তালিবান যদি আগের চেয়ে ভালো হতো এখন, যদি সত্যিই তাদের পরিবর্তন হতো, তাহলে শরিয়া আইনের নাম তারা মুখে আনতো না।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2458426137635163&id=100004034030498

বিশ্বজুড়ে তালিবানদের অত্যাচারের ছবি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভারতে ফেরার পর বাঙালি যুবক তমাল ভট্টাচার্যের মুখে শোনা যায় অন্য সুর। তিনি বলেছেন, তালিবানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছেন। কখনও আবার তালিবান শাসনে মাংসের দোকানে কাবাবে বেশি পরিমাণ মাংস দেওয়া হয়েছে বলে প্রশংসা করেন তিনি। তমালের এইধরণের মন্তব্যে তাজ্জব গোটা বাংলা তথা দেশ।

লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেন, ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘পুট ইয়রসেলফ ইন মাই সুজ।’ তোমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে বলে তালিবান ভালো? তারা অন্যের সঙ্গে কী ব্যবহার করছে তা দেখে তো তাদের সম্পর্কে রায় দিতে হবে! আফগান মেয়েরা যদি বলে আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে তালিবানদের সম্পর্কে মন্তব্য করো, তাহলে? তমাল যদি বাঙালি বাবু না হয়ে কোনও স্বাধীনচেতা আফগান মেয়ে হতেন, যে মেয়ে বোরখা বা হিজাবের শৃঙ্খল পছন্দ করেন না, তমাল ভট্টাচার্যের মতোই আন্তর্জাতিক ইস্কুলে শিক্ষকতা করতে চান, স্বর্নিভর হতে চান, তাহলে?

অন্যদিকে মুখে এককথা বললেও কাজে অন্য তালিবানদের। স্কুল ও কলেজগুলিতে কো-এডুকেশন বন্ধ করেছে তারা। সরকারি দফতরের মহিলা কর্মীদের ঘরবন্দি থাকার ফতোয়া জারি করেছে এই জঙ্গি সংগঠন।

Comments are closed.