মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে দেড় ঘন্টার বৈঠক, তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্টের দায়িত্বে প্রশান্ত কিশোর

একজন ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে নিজের রাজ্যে অভূতপূর্ব ধাক্কা খেয়েছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যজন অন্ধ্র প্রদেশে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের নজিরবিহীন সাফল্যের অন্যতম কারিগর। তারও আগে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে গুজরাতে বিজেপির, বিহারে নীতিশ কুমারের সাফল্যের সার্টিফিকেট। নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বৃহস্পতিবার নবান্নে দেড় ঘন্টারও বেশি বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন তিনি।
সূত্রের খবর, ২০১৯ লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে অন্ধ্র প্রদেশে জগনমোহন রেড্ডির অভূতপূর্ব জয়ের নেপথ্যে থাকা নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে চুক্তি করল তৃণমূল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হয়ে রণকৌশল সাজাবেন প্রশান্ত কিশোর। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবারে নবান্নে যান প্রশান্ত কিশোর। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টানা দেড় ঘন্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন প্রশান্ত কিশোর। এই লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পর বেশ চাপেই রয়েছে তৃণমূল শিবির। এই প্রেক্ষিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে মোকাবিলা করতে নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরকে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার থেকেই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা কাজ শুরু করে দেবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছানো, তার প্রচারেরও দায়িত্ব নেবেন তিনি।
যেখানেই ভোট প্রচারের নকশা আঁকেন তিনি, সিংহভাগ জায়গায় ম্যাজিক হয়। কয়েক বছরে বিভিন্ন নেতা ও দলের উত্থানের পিছনে রয়েছে এই প্রশান্ত কিশোরের স্ট্র্যটেজি। সম্প্রতি তিনি তাঁর সাফল্যের ছাপ রেখেছেন জগনমোহন রেড্ডির জয়ে। অন্ধ্র প্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডুকে কার্যত নাস্তানাবুদ করে ১৭৫ টি বিধানসভা আসনের ১৫২ টি আসনেই জয় পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন জগনমোহন রেড্ডি৷
প্রশান্ত কিশোরের সাফল্যের লিস্ট অবশ্য বেশ লম্বা। ২০১২ সালে গুজরাত বিধানসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদীর জয়লাভ থেকে ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপির ক্ষমতা দখলের পেছনে প্রশান্ত কিশোরের স্ট্র্যাটেজির ভূয়সী প্রশংসা করেছে গেরুয়া শিবির। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিহারে নীতীশ কুমারের সাফল্যও এসেছিল প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে। এছাড়া ২০১৭ সালে পঞ্জাবের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। অবশেষে ২০১৮ সালে নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসেন নীতিশ কুমারের হাত ধরে। যদিও নির্বাচনী নকশা তৈরির কাজ থামাননি। এরপর অন্ধ্রের ওয়াইএসআর কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর।
এই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের সঙ্গে প্রশান্ত ভূষণের চুক্তি সই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই লোকসভা ভোটে বাংলায় ১৮ টি আসন পাওয়া বিজেপির জয় উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই, পরবর্তী নির্বাচনের কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-প্রশান্ত কিশোর।

Comments are closed.