রেশমি বাগচি: এই মুহূর্তে বাংলা সঙ্গীত জগতের অন্যতম ব্যস্ত পারফর্মার গৃহবন্দি হয়ে কী করছেন?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: সংসারের কাজ করছি সকলের মতোই। রান্না ভালো পারতাম না। এই সুযোগে শিখলাম অনেকটা। রুটিগুলো গোল হচ্ছে, ফুলছে। লুচি পুড়ছে না, এটা কম কথা? গানের রেওয়াজ বাড়িয়ে দিয়েছি, বই পড়ছি, গান শুনছি, সিনেমা দেখছি। পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছি, যার সুযোগ খুব বেশি হয় না।

রেশমি বাগচি: বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে সকলকে, কীভাবে সামাল দেবেন?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: সব অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। এপ্রিলে দেশে-বিদেশে অনেক কাজ ছিল। দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, ইউএসএ, দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই, সব জায়গায়। প্রতিটি শো বাতিল হল। বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লাম। জানি না কীভাবে সামাল দেব। আমি চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি বহু বছর। স্ট্যান্ডার্ড অভ লিভিং কমাতে হবে প্রায় সকলকেই। যা বুঝতে পারছি, আর্থিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

রেশমি বাগচি: এরপর প্রথম বিদেশ সফরে কি একটু ভয় কাজ করবে? লকডাউন কাটলেও বিদেশের শো কি এখনই করবেন?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: হ্যাঁ, তা তো করবেই। জুলাইয়ের বঙ্গ সম্মেলন ক্যান্সেল হল। কবে আবার শো শুরু হবে কে জানে? হয়ত পুজোর পরে। তবে বিদেশে যেতে একটা ভীতি কাজ করবে মনে।

রেশমি বাগচি: গানের অনুষ্ঠানে বা চর্চায় এর কি প্রভাব পড়বে মনে হচ্ছে আপনার?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: অনুষ্ঠানে অবশ্যই প্রভাব পড়বে। কাজ কমবে, রেট কমবে, শুধু তো গায়ক নন, সহশিল্পীদের (মিউজিশিয়ান) কথাও ভাবতে হবে। কাজ কমার জন্য নিজেদের মধ্যে ঈর্ষা, হিংসা আরও বাড়বে।

রেশমি বাগচি: কিন্তু এমন একটা কঠিন পরিস্থিতিতে ইন্ডাস্ট্রি একসাথে হতে পারবে না? ক্রাইসিস সিচুয়েশনে সবাই একসাথে হলে পার করা যায়!

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: সুস্থ প্রতিযোগিতা সবসময় কাম্য। এতদিন কাজ করে যা বুঝলাম, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে খুব লবি সিস্টেম। নাম করতে চাই না কারওর, একসাথে যদি কাজ করতে পারতাম তাহলে এই অবস্থা হত না। আমাদের এতো ক্ষুদ্র দিকে মন, আমি চাই নিরপেক্ষ নেতৃত্ব থাকুক। একটাই লবি হয়ে সকলে কাজ করি।

রেশমি বাগচি: এখন কী কী রিসার্চের কাজে হাত দিলেন?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: একটা দরকারি কাজে হাত দিয়েছি, দুষ্প্রাপ্য গানগুলির নোটেশন করছি। তাতে পুরাতনী বাংলা গান যেমন আছে, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্তের গানও আছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল পাবে। এছাড়া দুটি বইয়ের কাজেও হাত দিয়েছি।

রেশমি বাগচি: এখন তো সকলেই সোশ্যাল মিডিয়াতে তে খুব অ্যাক্টিভ, অনেকেই নানা বার্তা দিচ্ছেন। আপনার পোস্ট পড়ে মনে হল, আপনি একটু হতাশ!

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: দেখো অনেকেই নানা আবেদন করছে, নাচ, গান, আবৃত্তির ভিডিও পোস্ট করছে। আমি প্রতিদিনই এই রোগ সংক্রান্ত পোস্ট করেছি সচেতনতা বাড়াতে। মনে হয়েছে, এখন প্রতিভা দেখানোর সময় নয়। কিন্তু মানুষের মানসিকতা দেখে এই দেশে কিছু বলা বাতুলতা মাত্র।

রেশমি বাগচি: অনেক পরিবারেই প্রায় গৃহযুদ্ধ বাধার পরিস্থিতি, এত সময় বাড়িতে থেকে কীভাবে ব্যালেন্স করছেন?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি ব্যালেন্স করতে পারি দিব্যি। বাসন মাজা, কাপড় কাচা…সবই করছি, কোনো ইগো নেই আমার। আমার স্বামী মহা কুঁড়ে, তাই তিনি কোনও সাহায্যই করেন না (হেসে)। তবে ছেলে মাকে যথাসাধ্য সাহায্য করছে। আমাদের ঠাকুমা দিদিমাদের কথা মনে করে মনে বল পাচ্ছি।

রেশমি বাগচি: এই সময় কোন গানটা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: অনেক গান শুনছি। প্রতিমা বন্দোপাধ্যায়, মন্জু গুপ্ত, জগজিৎ সিংহ…অতুলপ্রসাদের…আমায় রাখতে যদি আপন ঘরে…শুনছি। আমার মাস্টারমশাই সুশীল চেট্টাপাধ্যায়ের কন্ঠে বার বার শুনছি গানটি।

রেশমি বাগচি: আপনি সুন্দরী, লকডাইউনে আরও কতটা সুন্দর হলেন?

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়: বিউটি পার্লারে খুব একটা যাই না। স্ট্রেট করা চুল, এখন আবার কার্লি হেয়ার হয়ে গেছে। সত্যি বলতে কি, কলেজের দিনে ফিরে গেছি। কোঁকড়া চুল, চোখে চশমা, হট প্যান্টস, বইয়ের ভেতরে মুখ গুঁজে দিন কাটছে (খিলখিলে হাসি)। তাই বলছি দেখো আমি বয়সে কমছি। এভাবেই জীবনকে দেখি, সৌন্দর্যকেও।

 

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us