এটা ঠিকই, কিছু লোকসভা এবং বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন কিংবা কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল দেখে আগাম অনুমান করা মুশকিল, ২০১৯ লোকসভা ভোটে কী রেজাল্ট হতে যাচ্ছে। কারণ, সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে কয়েক মাস বাদে লোকসভা নির্বাচন হবে, যেখানে পাঁচ বছরের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে লড়বে বিজেপি। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির সম্পর্কের সমীকরণ কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বছরের প্রথম দিনেও অন্তত পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কিন্তু ২০১৮ সালে গোটা দেশে যত নির্বাচন এবং উপনির্বাচন হয়েছে, সে লোকসভা হোক বা বিধানসভা, তাতে একটা জিনিস স্পষ্ট, স্বস্তিতে নেই বিজেপি শিবির।
২০১৮ সালে গোটা দেশে ১৩ টি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ২ টি আসনে জিতেছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, এই ১৩ টি আসনের মধ্যে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৯ টি আসন জিতেছিল বিজেপি। তার মধ্যে ৭ টিতেই বিজেপি হেরেছে সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮ সালে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর, ফুলপুর, রাজস্থানের আলওয়ার, কর্ণাটকের বেল্লারির মতো বিজেপির শক্ত ঘাঁটিও।
২০১৮ সালে ৯ টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশের মতো বড় রাজ্য এবং শক্তিশালী ঘাঁটিতে হেরেছে বিজেপি। জিতেছে শুধুমাত্র ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরায়। এর পাশাপাশি, ২০১৮ সালে গোটা দেশে মোট ১৬ টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে বিজেপি জিতেছে মাত্র ২ টি আসনে।
২০১৮ সালের একদম শুরুতে, জানুয়ারি মাসে রাজস্থানের আলওয়ার, আজমের এবং পশ্চিমবঙ্গের উলুবেড়িয়া লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। যার মধ্যে রাজস্থানের ২ টি আসনই ২০১৪ সালে জিতেছিল বিজেপি। ২০১৮ তে কিন্তু ২ টি আসনেই জেতে কংগ্রেস। উলুবেড়িয়া আসনে মার্জিন অনেক বাড়িয়ে ধরে রাখে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর, ফুলপুর এবং বিহারের আরারিয়া লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। সেখানেও ২০১৪ সালে যোগী আদিত্যনাথের গোরক্ষপুর এবং ফুলপুরে জিতেছিল বিজেপি। ২০১৮ সালে এই ২ টি আসনেই জেতে সমাজবাদী পার্টি, আরারিয়া আসন ধরে রাখে লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি। গত বছর মে মাসে উত্তর প্রদেশের কাইরিনা, মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা-গোন্ডিয়া, পালঘাট এবং নাগাল্যান্ড লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। ২০১৪ সালে কাইরিনা, ভান্ডারা-গোন্ডিয়া এবং পালঘাট, ৩ টি আসনেই জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০১৮ সালে পালঘাট ধরে রাখতে পারলেও, বাকি ২ আসনে হারে তারা। কাইরিনাতে আরএলডি এবং ভান্ডারা-গোন্ডিয়া’তে এনসিপি জেতে। নাগাল্যান্ডে জেতে এনডিপিপি। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে কর্ণাটকের বেল্লারি, মান্ডিয়া এবং শিভামোগা লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। ২০১৪ তে বিজেপি বেল্লারি এবং শিভামোগা আসনে জিতেছিল। মান্ডিয়া জিতেছিল জেডিএস। ২০১৮ র শেষে বিজেপি জেতে শুধু শিভামোগা আসনে। বেল্লারি জেতে কংগ্রেস, মান্ডিয়া জেডিএস ধরে রাখে।
২০১৮ সালে ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, মধ্য প্রদেশ, মিজোরাম, রাজস্থান এবং তেলেঙ্গানা রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয়। একমাত্র ত্রিপুরা বিজেপি জিতলেও, তাদের হাতছাড়া হয় মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়। কর্ণাটকে বিজেপিকে ঠেকিয়ে সরকার গঠন করে জেডিএস-কংগ্রেস জোট। ২০১৮ সালে গোটা দেশে বিভিন্ন রাজ্যের ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি জেতে মাত্র ২ টি আসনে। কংগ্রেস ৭ টি জেএমএম ২ টি, এবং তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, জেডিএস ১ টি করে আসনে জেতে।
সব মিলিয়ে বলাই যায়, ২০১৮ সালে নির্বাচনী রাজনীতিতে একেবারেই ভালো যায়নি মোদী-অমিত শাহর। বরং বলা যেতে পারে, নির্বাচনী রাজনীতির নিরিখে ২০১৮ তে যথেষ্টই খারাপ ফল করেছে বিজেপি। বরং, বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলি ২০১৪ সালের তুলনায় অনেকটাই শক্তি বৃদ্ধি করেছে, যা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মোদী-অমিত শাহর কপালে।