সিবিআই-এর দুই শীর্ষ কর্তার নজিরবিহীন লড়াই একদিকে যেমন দেশের তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই বিজেপি সরকারের আমলে সিবিআই কর্তাদের সঙ্গে যেভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে, তার তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধী দলগুলি। দুই সিবিআই কর্তা অলোক ভার্মা ও রাকেশ আস্থানা পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতিতে দুই শীর্ষ অফিসারকেই ছুটিতে পাঠায় কেন্দ্র। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন অলোক ভার্মা।
বুধবার, সুপ্রিম কোর্টে অলোক ভার্মার পিটিশনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দুই কর্তার পরস্পরকে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণকে ‘ক্যাট ফাইট’ বলে তুলনা করল সরকার পক্ষ। এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়, যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার দুই কর্তা বিড়ালের মতো লড়ছিলেন, ওই পরিস্থিতেতে আলোক ভার্মাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল সিবিআই-এর স্বার্থে। সুপ্রিম কোর্টও জানায়, অলোক ভার্মা ও রাকেশ আস্থানাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে।
‘কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই-এর দুই সর্বোচ্চ কর্তার যুদ্ধ দেখে বিস্মিত হয়ে যায়, তাঁদের লড়াই ছিল বিড়ালের মতো। সিবিআই একটা ব্যাঙ্গের বস্তু হয়ে পড়েছিল, তাই বাধ্য হয়ে কেন্দ্র এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে শীর্ষ আদালতে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল।
অলোক ভার্মার আইনজীবী ফলি নরিমান কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বলেন, সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে তাঁর মক্কেলকে সরানোর জন্য কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।
প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশের মাংস ব্যবসায়ী মইন কুরেশির বিরুদ্ধে বহু কোটি টাকার জালিয়াতি ও হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের যে অভিযোগ ওঠে তাতে নাম জড়িয়েছিল সতীশ সানা নামে হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ীর। ঘটনার তদন্ত শুরু করে ইডি ও সিবিআই। তদন্তকারীদের সানা জানান, সিবিআই-এর চার্জশিট থেকে যাতে তিনি মুক্তি পান তার জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে দশ দফায় তিনি ২ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন সিবিআই-এর স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে। সানার এই অভিযোগের পরই সিবিআই এফআইআর করে সংস্থার দু’নম্বর আস্থানার বিরুদ্ধে।
নিজের বিরুদ্ধে এই এফআইআর-এর কথা জানতে পেরেই তৎকালীন সিবিআই প্রধান অলোক ভার্মার বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ আনেন আস্থানা।