১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা কল্যাণ সিংহের আইনজীবী হিসেবে মামলা লড়েছিলেন, সেই কারণেই অযোধ্যা মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি ইউ ইউ ললিত।
অযোধ্যা মামলার জন্য পাঁচ সদস্যের যে সাংবিধানিক বেঞ্চ তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম বিচারপতি ছিলেন ললিত। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির শুরুতে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি ইউ ইউ ললিতকে নিয়ে। তাঁর মতে, এতে বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় আইনজীবী ছিলেন ললিত। যদিও পাঁচ সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ প্রথমে এই মত মানতে চাননি। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর জানানো হয়, বিচারের নিরপেক্ষতার স্বার্থে বিচারপতি ইউ ইউ ললিত এই বেঞ্চ থেকে সরে যাচ্ছেন। ইউ ইউ ললিত নিজেও এই সিদ্ধান্তের সমর্থন করে বলেন, মামলার নিরপেক্ষতার স্বার্থে তিনি বেঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। নতুন করে বেঞ্চ গঠনের পর অযোধ্যা মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৯শে জানুয়ারি ধার্য করা হয়। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন এই সাংবিধানিক বেঞ্চে ললিত ছাড়াও অন্য বিচারপতিরা ছিলেন বিচারপতি এস এ বোব্দে, বিচারপতি এন ভি রামানা, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতি উদয় ইউ ললিত আইনজীবী থাকাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন। এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য সলমন খানের বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলা, পঞ্জাবের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে সোহরাউদ্দিন ফেক এনকাউন্টার কেস এবং অবশ্যই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহের বিরুদ্ধে মামলা। এদিন আদালতে বিতর্কের মধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যিনি অমিত শাহর আইনজীবী হিসেবে সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো সংঘর্ষ মামলা লড়েছেন, তাঁকে অযোধ্যা মামলায় সাংবিধানিক বেঞ্চে রাখলে প্রশ্ন উঠতে পারে।

You may also like